Skip to content

সোনারগাঁও জাদুঘর কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন এবং ভ্রমণের সময় সূচি সহ বিস্তারিত তথ্য!

    সোনারগাঁও জাদুঘর

    সোনারগাঁও জাদুঘর : এই জাদুঘরের অফিসিয়াল নাম শিল্পাচার্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর। আমরা যারা প্রকৃতির সৌন্দর্য অবলোকন এর জন্য বাসা থেকে ছুটে যেতে চাই প্রকৃতির খুব কাছাকাছি সোনারগাঁও জাদুঘর তাদের জন্য। 

    না, এটি আসলে বিশাল গ্যালারিতে পরিপূর্ণ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী  কোন স্থান নয়।  সোনারগাঁও জাদুঘর সুবিশাল ঐতিহ্যে এবং অতি প্রাচীন এক বিশাল অনুভূতির সংগ্রহশালা যা কিনা একবার অবলোকন না করলে অনেক কিছু থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা হবে।  

    সোনারগাঁও জাদুঘর – Sonargaon Jadughar

    জাদুঘরটির বিশালতাকে তখনই খুঁজে পাবেন যখন এখানের ঐতিহ্যবাহী মহিমান্বিতকে নিজের মন থেকে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের সাথে অনুধাবন করতে পারবেন। জাদুঘরের সংগ্রহশালাটি যেন গ্রামবাংলার কারুশিল্প এবং লোকশিল্প কে পরম আদরে ধারণ করে রয়েছে। 

    তবে চলুন দেরী না করে প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য কে আপনি কিভাবে সহজে অবলোকন করতে পারবেন এবং আপনার ভ্রমণ পিপাসু মন কে তৃপ্তি দিতে পারবেন সেই বিষয়ে একটি আলোচনা করা যাক।

    সোনারগাঁও জাদুঘর কীভাবে যাবেন? কোথায় থাকবেন? কি কি দেখবেন? এবং ভ্রমণের সময় সূচি

    জীবনের ব্যস্ততম সময়ে একটি আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি করার জন্য আমরা সকলেই চাই একটি সৌন্দর্যমন্ডিত গ্রামীণ পরিবেশ উপভোগ করতে। সোনারগাঁও জাদুঘর গ্রাম্য পরিবেশের এক অনন্য দৃষ্টান্ত যেখানে আপনি আপনার পরিবার এবং আপনার ছোট ছোট সোনামণিদের পরিদর্শন করার জন্য নিয়ে যেতে পারেন। 

    চলুন বিস্তারিত জানিঃ

    কিভাবে যাবেন?

    আপনি যেকোনো স্থান থেকে সোনারগাঁও চলে যেতে পারবেন। সোনারগাঁও জাদুঘর এ  যেতে হলে প্রথমে আপনাকে নারায়ণগঞ্জে আসতে হবে।  সরাসরি  ঢাকার গুলিস্তান চলে আসুন।  এখান থেকে আপনি সোনারগাঁও গামি অনেক ধরনের বাস সার্ভিস পেয়ে যাবেন।

    ঢাকা থেকে সোনারগাঁও পথের যাত্রা দূরত্ব মাত্র ২৭ কিলোমিটার যেখানে যেতে আপনার খুব একটা বেশি সময় প্রয়োজন হবে না। সোনারগাঁও গামী বাস থেকে নেমে আপনি রিক্সা অথবা অটোতে করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে যেতে পারেন। 

    রিকশায় করে যেতে চাইলে আপনাকে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া দিতে হতে পারে।  আর যদি আপনি আরও কম খরচে যেতে চান তাহলে যে সকল অটো শেয়ার করে ভাড়ায় চলে সেই অটোরিক্সাতে আপনি মাত্র ১০ টাকার মাধ্যমে পৌছে যেতে পারেন আপনার গন্তব্য স্থল সোনারগাঁও জাদুঘর এ। 

    সোনারগাঁও জাদুঘর লোকেশন – Sonargaon Museum Location

    কোথায় থাকবেন?

    বেশিরভাগ সময় আমরা যখন বাসা থেকে অনেক দূরে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাই তখন আমরা রাত্রিযাপন নিয়ে বেশ চিন্তায় পড়ে যাই।  কারণ, নিজের জায়গাটা নিরাপত্তা এবং মানসম্মত হওয়া খুবই জরুরী। 

    মূলত, যারা ঢাকা থেকে সোনারগাঁও এর উদ্দেশ্যে আসেন তারা বেশিরভাগই আবার ঢাকায় ফিরে যান কারণ ঢাকা থেকে সোনারগাঁও আসতে যেতে খুব একটা সময় প্রয়োজন হয় না।  

    ঢাকা থেকে সোনারগাঁও পর্যন্ত আসার জন্য বড়জোর আপনাদের দেড় ঘন্টা সময় লাগতে পারে।  তাই আপনি খুব সহজেই ধরে নিতে পারেন ঢাকা থেকে সোনারগাঁও যাওয়া-আসা করে আপনার ৩ ঘণ্টার বেশি সময় লাগবে না।   

    তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষেরা পরিদর্শন শেষ করে খুব অল্প সময়ের মধ্যে নিজেদের বাড়িতে ফিরে চলে আসতে পারেন। তবে আপনি যদি চান যে  আপনি সোনারগাঁও জাদুঘরের পাশে থাকবেন আবার পরের দিন পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে যাবেন তাহলে আপনার রাতে থাকার জন্যও সুব্যবস্থা রয়েছে। 

    রাতে থাকবার জন্য সোনারগাঁও জাদুঘর এর পাশে বিভিন্ন ধরনের সরকারি আবাসন প্রকল্প রয়েছে যেমনঃ সোনারগাঁও উপজেলা কমপ্লেক্স, কারুশিল্প ফাউন্ডেশন রেস্ট হাউস, জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, ইত্যাদি। 

    রাত্রিযাপনের জন্য বিভিন্ন ধরনের বেসরকারি আবাসন এর সুব্যবস্থাও রয়েছে। বেসরকারি আবাসনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে, কলাপাতা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট, গণবিদ্যালয় বেইজ, তাজমহল হোটেল, ক্যাফে সোনারগাঁও হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট।  

    খাবারের জন্য কোথায় যাবেন? 

    আপনার সুবিধার জন্য প্রথমেই বলে রাখি সোনারগাঁও জাদুঘর এর কাছে যে সকল রেস্টুরেন্ট স্থাপন করা হয়েছে সেখানে প্রত্যেকটি খাবারের মূল্য অতিরিক্ত চড়া।  তাই, বোকার মত হুট করে কোন রেস্টুরেন্টে বসে পড়বেন না। 

    প্রথমে রেস্টুরেন্টে খাবারের মূল্য তালিকা দেখুন। খাবারের দাম ঠিক করে যদি আপনার কাছে সঙ্গতিপূর্ণ মনে হয় এবং আপনার বাজেট পূর্ণ হয় তাহলে আপনি সেখান থেকে খাবার খেতেই পারেন।

    তবে সত্যি কথা বলতে কি সোনারগাঁও জনপদ এর থেকে একটু পাশে যদি আপনি ঘুরে আসতে পারেন তাহলে দেখবেন অনেক ধরনের খাবারের রেস্টুরেন্ট রয়েছে।  এসকল রেস্টুরেন্টে খাবারের মূল্য তালিকা এতটাও চড়া হবেনা বরং আপনি অল্প খরচের মধ্যেই আপনার পছন্দের সুস্বাদু খাবার সহজে পেয়ে যাবেন।  

    তো এখন আর খাবার নিয়ে নিশ্চয়ই কোনো চিন্তার বিষয় নেইতো আপনার কাছে?  আপনি খুব সহজেই নিজের জন্য এবং নিজের পরিবার পরিজনদের জন্য স্বল্প মূল্যে খাবারের সন্ধান পেয়ে যাবেন। 

     কি কি দেখবেন?

    • গ্রামীণ ঐতিহ্যঃ সোনারগাঁও জাদুঘর হচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক অনন্য সমাহার।  তবে যাদের ভেতরে গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতি কোনো মোহ নেই তারা এখানে এসে তেমন কোনো আনন্দ খুঁজে নাও পেতে পারেন। তবে আপনি যদি একজন গ্রামীণ মাটি, লোক এবং কারুশিল্পের প্রতি অনুরাগী হন তবে সোনারগাঁও জাদুঘর টি আপনার জন্য।
    • প্রাচীন শিল্পঃ মৃৎশিল্প, লোকশিল্প আমাদের সমাজ থেকে প্রায় উঠে গেছে। সোনারগাঁও জাদুঘর এ গিয়ে আপনি বিভিন্ন ধরনের নকশী কাঁথা অবলোকন করতে পারেন।  আপনি যদি একজন শিল্পকলার প্রতি অনুরাগী মানুষ হন তবে আপনি এই সকল কারুশিল্প দেখে অনেক বেশি উৎসাহিত হবেন।
    • বিভিন্ন শিল্পকর্মঃ সোনারগাঁও জাদুঘর এ মোট দশটি গ্যালারি রয়েছে। এসকল গ্যালারিতে বিভিন্ন ধরনের প্রাচীন সভ্যতার ঐতিহ্যের বিদ্যমান আপনাকে পুলকিত করবে এবং আপনার বাচ্চাদেরকে বিকশিত করবে। যেমন বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র, পোড়ামাটির শিল্প, পিতল কাঁসা শিল্প, লোহার এবং কাঠের তৈরি বিভিন্ন খোদাই করা মূর্তি ইত্যাদি।
    •  লোকশিল্প ফাউন্ডেশনঃ  সোনারগাঁও জাদুঘর এ গেলে লোকশিল্প ফাউন্ডেশন পরিদর্শন করতে একদমই ভুলবেন না। এখানে আপনি দেখতে পাবেন বিভিন্ন সেমিনার হল, লোকজ  মঞ্চ, ডকুমেন্টেশন সেন্টার,  ঈশা খাঁর জমিদার বাড়ি এবং তার সামনের অপরূপ সুবিশাল দিঘীরপাড় যেখানে আপনার অনেকটা সময় অচিরেই কেটে যাবে। 
    • পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়াঃ সত্যি কথা বলতে গিয়ে সোনারগাঁও জাদুঘর টি আপনার পরিবারের সাথে সময় কাটানোর জন্য অনন্য একটি স্থান।  বিকালবেলা গোধূলিলগ্নে আপনি যদি  স্নিগ্ধ লেকে ময়ূরপঙ্খী ঘোড়ায় চড়তে পারেন তাহলে তো খুবই মজার ব্যাপার তাই না? আবার যদি পেয়ে যান মাছ ধরার সুযোগ তাহলে তো কোন কথাই নেই।  
    • লোকশিল্পের মেলাঃ  সোনারগাঁও জাদুঘর এ প্রতি বছর বৈশাখ মাসে খুবই আনন্দপূর্ণ এবং জাঁকজমকপূর্ণভাবে বৈশাখী মেলা আয়োজিত হয়।   

    যদি সুযোগ হয় তাহলে আপনি এই সময়টি কেই বেছে নিতে পারেন আপনার দর্শনীয় স্থান টিকে অবলোকন করার জন্য।  বৈশাখ মাসে বৈশাখী মেলা কে উপভোগ করার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেক নামিদামি মানুষের  আগমন হয় এখানে।  সুতরাং, যদি আপনি বৈশাখী মেলা কে খুব ভালোভাবে উপভোগ করতে চান এবং তার সাথে আরও পেতে চান গ্রামীণ পরিবেশ তাহলে নিজে এবং পরিবার-পরিজনসহ সহজেই চলে আসতে পারেন। 

    সোনারগাঁ  জাদুঘর এ খরচ

    এখানে আবার কিসের খরচ হবে তাইনা?  না খুব বেশি খরচ নয়।  সোনারগাঁও জাদুঘর এ প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ৫০ টাকা করে দিতে হবে।  আর আপনি যদি আপনার নিজস্ব গাড়িতে করে আসেন বা মোটরসাইকেল নিয়ে আসেন তাহলে সে গুলোকে পার্কিং করার জন্য কিছু খরচ করতে হবে।  যেমনঃ  প্রাইভেটকার বাস-মোটরসাইকেল এবং বাইসাইকেল পার্কিংয়ের জন্য সর্বনিম্ন ২৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হবে। 

    জেনে রাখা ভালো জাদুঘরে প্রবেশের জন্য কিছু চার্জ সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হবে।  এখানে আলাদা আলাদা স্থান পরিদর্শনের জন্য আলাদাভাবে টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। 

    এছাড়াও, ময়ূরপঙ্খী ঘোড়ায় চড়তে এবং বসি দিয়ে মাছ ধরে উপভোগ করতে আপনাকে কিছু চার্জ দিতে হবে।  জাদুঘরটি এবং বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে।  তবে সপ্তাহের বাকী পাঁচ দিন আপনি সকাল ৯ টা থেকে খোলা  পাবেন। 

    শেষ কথা

    সোনারগাঁ জাদুঘর টি ঢাকা থেকে খুব একটা দূরে না হওয়ার কারণে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের এর প্রতি একটা টান থেকেই যায়। একটি কথা আমাদের সকলের মনে রাখা উচিত আমাদের পূর্বপুরুষের পূর্বজন্ম গ্রাম থেকেই হয়েছে।  গ্রামীণ পরিবেশ, লোক শিল্পী এবং লোক কোথায় যে সকল স্মৃতিবিজড়িত রয়েছে তার জন্য আমাদের মোহিত হওয়া উচিত। 

    তাই, চলুন শুধু পরিবেশকে অবলোকন করার জন্য নয় বরং আমাদের গ্রাম্য জীবন এবং  গ্রাম্য শিল্পীকে ভালোবাসার টানে আমরা ছুটে যাব সোনারগাঁ জাদুঘর এ ।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *