রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থান (Rangamati Tourist Spots) সমূহের বিস্তারিত তথ্য!
Skip to content
রাঙ্গামাটি জেলার দর্শনীয় স্থান (Rangamati Tourist Spots) সমূহের তালিকা সহ বিস্তারিত তথ্য জানুন!

রাঙ্গামাটি জেলার দর্শনীয় স্থান (Rangamati Tourist Spots) সমূহের তালিকা সহ বিস্তারিত তথ্য জানুন!

Rangamati Tourist Spots

রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থান সমূহের কথা যদি এখন আপনাদের বলতে শুরু করি তাহলে সবার আগে আমি গোলক ধাধায় পড়ে যাব! কেননা অপরুপ রাঙ্গামাটির কোন দর্শনীয় স্থান রেখে আপনাদেরকে কোন দর্শনীয় স্থান সম্পর্কে বলি! প্রকৃতি প্রেমিরা রাঙ্গামাটি কে বলেন ‘The Queen of Beauty!’ এই নামকরণ সত্যিই যথার্থ। আপনি সব জায়গা ভ্রমণ করেছেন,কিন্তু রাঙ্গামাটি যান নি তাহলে আপনার ভ্রমণ কখনো পূর্ণতাই পাবে না! 

রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থান সমূহের মধ্যে যেসব জায়গায় যেতে পারেন সেসব হচ্ছে কাপ্তাই লেক, সাজেক ভ্যালি, আরণ্যক, পেদা টিং টিং, চাং পাং রেস্টুরেন্ট, ঝুলন্ত ব্রিজ, চাকমা রাজবাড়ি কিংবা পলওয়েল পার্ক সহ আরও অনেক জায়গায়।

Rangamati Tourist Spots – রাঙ্গামাটি দর্শনীয় স্থান

কাপ্তাই লেক

কাপ্তাই লেক দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ একটি লেক। নৌকা বা স্পিডবোট ভাড়া করে কাপ্তাই লেক ভ্রমণের সময় এই লেকের নীল জলরাশি সেই সাথে মেঘের ছুটোছুটি আপনাকে মুগ্ধ করবেই। কাপ্তাই লেকের চারিদিকে অথৈ পানি আর পানি। এই লেকের কিছদূর এগিয়ে গেলে আপনার চোখে পড়বে ছোট ছোট দ্বীপ। এসব কিছু দেখতে দেখতে আপনার মনে হবে আহা কী মনোরম! আহা কী দৃষ্টিসুখ! কাপ্তাই লেক ভ্রমণের সময় স্বাদ নিতে পারেন পাহাড়ি ডাবের। মাত্র ৩০-৪০ টাকা খরচ করে চাইলে কাপ্তাই লেক ভ্রমণের ক্লান্তি দূর করতে পারেন। তাছাড়া ও কাপ্তাই লেক ভ্রমণের সময় আশেপাশের দ্বীপ গুলোতে ১৫-৩০ টাকার মধ্যে খেতে পারেন অসাধারণ প্লেভারের বিভিন্ন চা এবং মধু মাখা মিষ্টি পান। 

কাপ্তাই লেক ভ্রমনের সময় নৌকাযোগে আরো যেসব জায়গায় যেতে পারেন সেসব এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পলওয়েল পার্ক। অসাধারণ এই পার্কটি ৪০ টাকা ফি দিয়ে দেখে আসতে পারেন। এই পার্ক এর ভালোবাসার শোকগাথায় ছবি তুলতে দূর দূরান্ত থেকে হাজারো যুগল ছুটে আসেন। পলওয়েল পার্ক এর পাশেই রাঙ্গামাটি ঝুলন্ত ব্রিজ এর অবস্থান। কাপ্তাই লেক থেকে নৌকাযোগে অথবা পরিবহন যোগে এই ব্রিজ টি দেখে আসতে পারেন।  

এসব কিছু দেখতে দেখতে যখন আপনার ক্ষিদে চরম লেভেলে পৌঁছাবে তখম ঢু মারবেন পেদা টিং টিং বা চাং পাং রেস্টুরেন্টে। এই রেস্টুরেন্ট গুলোতে খেতে পারবেন কচি বাঁশের তরকারি, বিগল বিচি, কেবাং, কাঁচকি ফ্রাই বাম্বু চিকেন সহ হরেক রকমের আরো কত খাবার! রাঙ্গামাটি তে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিহার। এই বিহার অর্থাৎ রাজবন বিহার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও পর্যটকদের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় একটি জায়গা। কাপ্তাই লেক ভ্রমণের সময় নৌকা যোগে অনেকেই শুভলং ঝর্ণায় যেতে চান । তবে আপনি যদি শীতকালে কাপ্তাই লেক ভ্রমন করেন তাহলে এই ঝর্ণায় না যাওয়ায় ভাল হবে। শীতকালে এই লেকে কোন পানি থাকে না তাই পর্যটকদের কে আশ্বস্ত করার জন্য কৃত্রিম ভাবে উপর থেকে পানি ফেলানো হয়!

সাজেক ভ্যালি

সাজেক ভ্যালিকে বাংলাদেশের দার্জিলিং বলা হয়। সাজেক ভ্যালির অপরুপ এবং পাগল করা সৌন্দর্যের টানে সেখানে পর্যটকরা বারবার ছুটে যায়। সাজেক ভ্যালি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭০০ ফিট উপরে। মূলত রুইলুই এবং কংলাক এই দুটি পাড়া নিয়েই সাজেক। সাজেকের সবচেয়ে জাদুকরী দৃশ্য হচ্ছে কংলাক পাড়ার একদম উপরের দৃশ্য গুলো। রুইলুই পাড়া থেকে ৩০-৩৫ মিনিট ট্র্যাকিং করতে করতে চলে যেতে পারবেন কংলাক পাড়ায়। কংলাক পাড়ায় যাওয়ার পর একদিকে মেঘের সাড়াশি দৃশ্য অপর দিকে ভারতের মিজোরামের ভয়ঙ্কর সুন্দর পাহাড় আপনাকে মুগ্ধ করবেই। মেঘের উপরে পাহাড়র সাথে ঘেঁষেই সাজেকের কটেজগুলা তৈরি করা হয়েছে। ভূপৃষ্ঠ থেকে এতটা উপর থেকেই গোধূলি, মিষ্টি ভোর কিংবা গভীর রাত পর্যন্ত আকাশ আর মেঘ উপভোগ করা যায়। এবার চলুন জেনে নিই সাজেক কেন পর্যটনপ্রেমীদের কাছে এতটা চাহিদার তুঙ্গে। সাজেকের আসল সৌন্দর্য যদি দেখতে চান তাহলে বেরিয়ে পড়ুন সন্ধ্যার পর। এই সময় মেঘমুক্ত নীলাকাশ একটু একটু করে অন্ধকারে আচ্ছন্ন হয়ে যায়। আর সেসময় মিটিমিটি করে জ্বলে একটি দুটি তারা। কিছুক্ষণের মধ্যে দেখবেন একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে হাজারো তারা চোখের সামনে জ্বলজ্বল করে উঠছে। এরকম তারা ভরা আকাশ জীবনে হয়তো কখনও দেখেননি।

এবার জেনে নিন বাংলাদেশের দার্জিলিং খ্যাত সাজেকে কিভাবে যাবেন।  ঢাকা থেকে সাজেকে আসতে চাইলে খাগড়াছড়ি রুটের হানিফ, এস আলম, শ্যামলী তে করে প্রথমে খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছবেন। তবে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকে যেতে হলে আপনাকে উঠতে হবে খোলা জিপে। স্থানীয়রা এগুলোকে চান্দের গাড়ি বলে ডাকে। দুই দিনের জন্য এই গাড়ি গুলো ভাড়া করলে আপনাকে গুনতে হবে ৬০০০-১০,০০০ টাকা। 

আরণ্যক

রাঙামাটি শহরের সেনানিবাস এলাকায় গড়ে তোলা অপরুপ সুন্দর একটি রিসোর্ট, আরণ্যক রিসোর্ট। অনিন্দ্য সুন্দর এই রিসোর্ট টি যেন শিল্পির তুলিতে আকা নিখুদ একটি ছবি। ছবির মত সুন্দর কাপ্তাই হ্রদে ঘেরা এ রিসোর্টের পরিবেশ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। অনিন্দ্য সুন্দর এই রিসোর্টের প্রধান আকর্ষন হল এর অপরুপ পরিবেশ। এছাড়া ও এই রিসোর্টে কাপ্তাই লেকের নীল জলরাশিতে পেডেল বোটে মনের আনন্দে ঘুড়ে বেড়ানোর সুযোগ তো থাকছেই। শিশুদের জন্য এই রিসোর্ট এ রয়েছে বিভিন্ন রকমের রাইড। এই রিসোর্ট এর প্রবেশ ফি হচ্ছে মাত্র ৫০ টাকা। প্রতি সোমবার প্রবেশ বন্ধ থাকে এই রিসোর্ট টির।

আরণ্যক এর অপরুপ সৌন্দর্য্য দেখার পর যেতে পারেন এরই পাশের হ্যাপী আইল্যান্ডে। কাপ্তাই হ্রদের কোল ঘেষে  ৪৫ শতক জায়গার উপর তৈরী হয়েছে শিশু কিশোরদের এঈ বিনোদন কেন্দ্র হ্যাপী টি। এই আইল্যান্ডে শিশুদের জন্য  রয়েছে  অত্যাধুনিক সুইমিং পোল, পানির রাইডার  সহ বিনোদনের জন্য অসংখ্য সামগ্রী। হ্যাপি আইল্যান্ড এর শুভেচ্ছা ফি ৩০০ টাকা।

পলওয়েল পার্ক

পলওয়েল পার্ক এন্ড কটেজটি রাঙামাটি পুলিশের তত্ত্বাবধানে ডিসি বাংলো রোডের পাশে কাপ্তাই লেকের ঠিক কোল ঘেঁষে তৈরি করা হযেছে। অপরুপ সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় এটি হয়ে উঠেছে রাঙ্গামাটির অন্যতম সেরা বিনোদন কেন্দ্র। অভিনব নির্মাণশৈলী আর বৈচিত্রময় ল্যান্ডস্কেপ পলওয়েল পার্কটিকে দিয়েছে ভিন্ন ধরনের এক মাত্রা। বৈচিত্রময় ল্যান্ডস্কেপ এবং নৈসর্গিক প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটাতে প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠে এই পার্কটি। মুখোশের আদলে তৈরী করা হয়েছে এই পার্কটির প্রবেশপথ। এই পার্কের প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৩০ টাকা। তবে পাঁচ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদের জন্য কোন টিকেট লাগবেনা এই পার্কে প্রবেশ করতে। 

মূলত পলওয়েল পার্কে শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে কিডস জোন। শিশুদের আনন্দ দিতে এই পার্কে বিভিন্ন রকম রাইডের ব্যবস্থা রয়েছে। এই পার্কে প্রবেশের পর ঢেঁকিঘর আদলের একটি স্থাপনা আপনার নজর কাড়বে। গ্রামের নারীদের ঢেঁকিতে ধান ভানার এই ভাস্কর্য আপনাকে গ্রামীণ জীবনের কথা মনে করিয়ে দেয়। এই লেকের যেদিকে থাকান না কেন, কাপ্তাই লেকের মনোরম দৃশ্য আপনার চোখে পড়বে। সামনে যতদূর আপনার দৃষ্টি যাবে, দেখবেন লেকের অথৈ জলের সীমানা দূরের আকাশে গিয়ে মিশেছে। আকাশ আর লেকের নীলের মাঝে পাহাড়গুলো যেন সীমারেখা হয়ে আছে।

পলওয়েল পার্ক এর একেবারে শেষ প্রান্তে তৈরী করা হয়েছে লাভ পয়েন্ট। এই লাভ পয়েন্ট ছবি তুলতে দূর দূরান্ত থেকে হাজারো যুগল ছুটে আসেন। পলওয়েল পার্কে আরো রয়েছে কটেজ এবং সুইমিং পুল এর সুবিধা। তাছাড়া ও লেকে ঘোরার জন্য বোটের ব্যবস্থা তো আছ। এছাড়া ও আছে জেট স্কিইং এবং কায়াকিং এর ব্যবস্থা। লেকের পার ঘেঁষে এই পার্কে রাখা আছে বিচ চেয়ার। লেক আর পাহাড়ে সন্ধ্যা নামার দৃশ্য উপভোগ করতে শেষ বিকেলে এখানে বসতে পারেন আয়েশ করে।

জেনে তো নিলেন রাঙ্গামাটির দর্শনীয় স্থান সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থান সমূহ সম্পর্কে এখন ব্যাগ গুছিয়ে একদিন রাঙ্গামাটি দেখে আসার পালা! 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *