মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত কিভাবে যাবেন,কোথায় থাকবেন, ভ্রমণকালীন খাওয়া দাওয়া সহ বিস্তারিত ট্যুরিস্ট গাইড!
Skip to content
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত কিভাবে যাবেন,কোথায় থাকবেন, ভ্রমণকালীন খাওয়া দাওয়া সহ বিস্তারিত ট্যুরিস্ট গাইড!

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত কিভাবে যাবেন,কোথায় থাকবেন, ভ্রমণকালীন খাওয়া দাওয়া সহ বিস্তারিত ট্যুরিস্ট গাইড!

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত

জলপ্রপাত ভালো লাগে না এমন কোনো ভ্রমণপিয়াসীকে হয়তো খুঁজেই পাওয়া যাবে না। কেননা যারা ভ্রমণ করতে প্রচন্ডরকম ভালোবাসে তারা সাগর, নদী, বন-জঙ্গল কিংবা জলপ্রপাতের প্রতি যথেষ্ট মুগ্ধ থাকে! এক্ষেত্রে আজ আমরা একটি জলপ্রপাতের পরিচিতি, অবস্থান, স্থানটিকে ঘিরে ছড়ানো পুরোনো সত্য কিংবা কাল্পনিক গল্প এবং একটি সম্পূর্ণ ভ্রমণ গাইডলাইন সম্পর্কে জানবো।

তবে তার আগে বলে নিই আমাদের আজকের আলোচনার মূল বিষয় হলো মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। নাম শুনেই হয়তো বুঝে গেছেন বেশ পরিচিত একটি পর্যটন স্থান সম্পর্কে আজ আমরা আলোচনা করতে চলেছি! 

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত – Madhabkunda Waterfall

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত পরিচিতি 

মূলত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতকে প্রকৃতির অপরূপ লীলাক্ষেত্র বললে মোটেও কম কিছু বলা হবে না। শুরুতেই বলে রাখি বাংলাদেশের একমাত্র প্রাকৃতিক এবং সৌন্দর্যে ভরপুর জলপ্রপাত হিসেবে এই মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের জনপ্রিয়তা দেখার মতো। বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে নিয়মিত এই পর্যটন স্থানটিতে ঘুরতে আসে লাখ লাখ পর্যটকেরা। 

Madhabkunda Waterfall ভ্রমণের সবচেয়ে পজেটিভ এবং গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এই স্থানটি ভ্রমণের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই ২০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের উপর থেকে পড়া জলরাশির খেলা উপভোগ করতে পারবেন। এতো উঁচু কোনো পাহাড় থেকে পানির স্রোত নেমে আসার দৃশ্য সরাসরি নিজ চোখে দেখতে পারাটাও আপনার মানসিক শান্তি অনুভব করার কারণ হতে পারে। 

এছাড়াও এই জলপ্রপাতের আশেপাশে কিংবা কাছাকাছি স্থান থেকে শোনা সাঁ সাঁ শব্দও বেশ উপভোগ্য মনে হবে আপনার। যেনো এক অবাক করা দৃশ্যের সাথে অদ্ভুত শব্দের সংমিশ্রণে দ্রুত সময়টুকু গায়েব হতে চলেছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত হিসেবে সমধিক পরিচিত হওয়ায় এই জলপ্রপাত ভ্রমণ আপনাকে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে সাহায্য করবে। 

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের নিচে পড়ে থাকা মাধবছড়াও যেকোনো দর্শনার্থীর মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো মূল ধারাটি থেকে সবসময় পানি গড়াতে থাকলেও বর্ষাকালে ছোট আরো একটি ধারার সৃষ্টি হয়। যা দেখতে ছোট ঝর্না মনে হতে পারে। বর্ষাকালে যেহেতু ছোট-বড় দু’টো ঝর্না থেকেই একই সাথে পানি পড়তে থাকে সেহেতু নিচের অংশটি পানিতে ফুলেফেঁপে দ্বিগুণ হয়ে উঠে। 

মাধবকুন্ড জলপ্রপাত কোথায় অবস্থিত – Madhabkunda Waterfall Location

এবার চলুন মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের অবস্থান সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। মূলত মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের অবস্থান হলো সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলায়। আরেকটু সহজ ভাষায় বলরে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের অবস্থান মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার ভেতরকার অংশে। 

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পুরোনো গল্প

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত নিয়ে বিভিন্ন কথিত ঘটনা রয়েছে। তবে এসব ঘটনার মাঝেও যেকোনো একটি ঘটনাকে খুব বেশি সত্য বলে মনে করা হয়। এক্ষেত্রে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের নামকরণ সম্পর্কিত ইতিহাস সম্পর্কে একেবারে না বললেই নয়। ধারণা করা হয় যে, এক সন্যাসীই এই ধরণের নামকরণের পেছনে দায়ী। সে-সময় শ্রীহট্টের রাজা গঙ্গাধ্বজ ওরফে গোবর্ধন পাথারিয়া পাহাড়ে নিজের মতো করে একটি বিশ্রামাগার তৈরির সিদ্ধান্ত নেন এবং নে অনুযায়ী তা তৈরিও করে ফেলেন। 

শ্রীহট্টের রাজা গঙ্গাধ্বজ ওরফে গোবর্ধন মূলত এই পাথারিয়া পাহাড়ে তৈরি করা বিশ্রামাগারে এসে ধ্যান করতেন। একদিন ধ্যান করার সময় মাটির নিচে একজন সন্ন্যাসীকে তিনি দেখে ফেলেন এবং সেই সন্ন্যাসী শ্রীহট্টের রাজা গঙ্গাধ্বজ ওরফে গোবর্ধনকে নানান উপদেশ দিতে শুরু করেন৷ উপদেশ দেওয়া শেষ করে সেই সন্ন্যাসী যখন চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন এবং চলে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই তিনবার মাধব, মাধব মাধব নামে দৈববাণী শোনা যায়। সেই থেকে এই জলপ্রপাতের নামকরণ করা হয় মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত নামে। 

যারা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে ঘুরতে যাবেন তারা স্থানটির পাশেই একটি কমলা বাগান দেখতে পাবেন। এই কমলা বাগানটি ১৩৪২ সালে বিষ্ণুদাস সন্ন্যাসী নামের এক সন্নাসী তৈরি করেছিলেন। যা মূলত মূল জলপ্রপাতের ঠিক পশ্চিমাংশে অবস্থিত একটি বাগান। এই বাগান নিয়ে দর্শনার্থীদের আগ্রহেরও কোনো কমতি নেই। 

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত সম্পর্কিত ইতিহাস সম্পর্কে ঘাঁটাঘাঁটি করে বোঝাই যাচ্ছে এটি মূলত সনাতন ধর্মের সাথে সংযুক্ত একটি নিশ্চুপ কিংবা শান্ত স্থান। ফলে এই স্থানটির দর্শনার্থীদের বেশিরভাগই সনাতন ধর্মাবলম্বী! 

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে যা যা দেখবেন

Madhabkunda Waterfall ভ্রমণ করতে গিয়ে উপভোগের বিষয়টাকে অগ্রাহ্য করবেন, তা তো হয় না! মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের অসংখ্য সৌন্দর্য উৎস রয়েছে। 

শুরুতেই বলবো মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের পাথারিয়া পাহাড় মানে পূর্বের আদম আইল পাহাড় সম্পর্কে। এই পাহাড়টি মূলত কঠিন পাথরে গঠিত ভিন্নধর্মী একটি পাহাড়। যা সরাসরি নিজ চোখে না দেখলে সত্যিই বড়সড় একটি অভিজ্ঞতা মিস করা হবে। মূলত এই পাহাড়ের উপর দিয়ে গঙ্গামারা ছড়া বয়ে চলছে এবং এই ছড়াই তৈরি করেছে আমাদের আজকের আলোচনার মূল আকর্ষণ অর্থ্যাৎ মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত! 

যারা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ভ্রমণ করতে যাবেন তাদের জন্য প্লাস পয়েন্ট হিসেবে থাকছে আরো একটি ছোট ঝর্ণা উপভোগের সুযোগ। তবে এই ছোট ঝর্ণা তারাই উপভোগ করতে পারবেন যারা কেবল বর্ষাকালেই মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ বর্ষাকালেই এই ছোট ঝর্ণাটি মূল ঝর্ণার পাশাপাশি জেগে উঠে। 

এছাড়াও মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের মূল কুণ্ডের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে শিবমন্দির। যা হিন্দু সম্প্রদায়ের দর্শনার্থীরা বেশ গুরুত্বের সাথেই ঘুরে দেখেন এবং প্রার্থনা করেন। 

তবে সবমিলিয়ে কেউ যদি মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের আসল সৌন্দর্য সম্পর্কে জানতে চায় তবে আমি বলবো পাথরের পাহাড় বেয়ে নেমে আসা ঝর্ণার মূল দৃশ্যটি সম্পর্কে। একে তো ভিন্নধর্মী একটি পাহাড়! যা কিনা পুরোপুরি পাথরের তৈরি! তার উপর ঝর্ণার স্বচ্ছ পানি অনবরত নিচে নেমে আসছে। এমন সুন্দর দৃশ্য বছরের পর বছরের উপভোগ করলেও আমার মনে হয় না তা দেখার স্বাদ মিটে যাবে! সবমিলিয়ে ভিন্নধর্মী এবং নিরিবিলি ভ্রমণ উপভোগ করতে এই মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ভ্রমণ হতে পারে সেরা অপশন!

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে যেভাবে যাবেন

শুরুতেই আপনাকে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলায় পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকেই সহজ কিছু স্টেপ ফলো করলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত নামক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আঁধার এই পর্যটন স্থানটিতে।

দেশের যেকোনো স্থান থেকে মৌলভীবাজার বাজার জেলা সদরে পৌঁছে সেখান থেকে ঠিক ৭০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে গেলেই দেখা মিলবে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের! এছাড়াও ৪০০-৪৫০ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে সহজেই কুলাউড়া থেকে সিএনজি অটোরিক্সায় করে সরাসরি মাধবকুন্ড যাওয়া যায়! 

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ভ্রমণে যেখানে খাওয়া-দাওয়া করবেন

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ভ্রমণে গিয়ে ক্ষুধা পেটে ফিরে আসলে কি হয়? মোটেও না! এক্ষেত্রে আপনারা চাইলে মাধবকুণ্ডে গড়ে উঠা বিভিন্ন মাঝারি রেস্টুরেন্টে গিয়ে খাবার-দাবারের পর্ব সেরে নিতে পারেন। তবে আগেই বলে রাখছি এসব রেস্টুরেন্টে কিন্তু খাবারের দামটা তুলনামূলক একটু বেশি। সুতরাং দাম নিয়ে যাদের কোনো সমস্যা নেই তারা এসব রেস্টুরেন্টের খাবার ইজিলি ট্রাই করতে পারেন। আর যাদের বাজেট কম কিংবা খাবারের পেছনে টাকা নষ্ট করতে চান না তারা বাড়ি থেকে কিংবা মৌলভীবাজার বাজারের মেইন সদর এলাকার হোটেল থেকে খাবার সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে পারেন। 

Madhabkunda Waterfall ভ্রমণে যেখানে রাত্রিযাপন করবেন

যারা বেশ দূর-দূরান্ত থেকে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত সরাসরি নিজ চোখে উপভোগ করার জন্য ছুটে যাবেন তাদের ক্ষেত্রে রাত্রিযাপনের একটা ব্যাপার থাকে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন দ্বারা পরিচালিত হোটেল কিংবা রেস্ট হাউজে উঠে পড়তে পারেন। এছাড়াও যারা রাতটা মাধবকুণ্ডে কাটাতে চান কিংবা ক’টা দিন মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের সাথে বন্ধুত্ব করতে চান তারা মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টেও উঠে পড়তে পারেন৷ 

ইতি কথা

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত ঘিরে আমাদের আলোচনা এতোটুকুই। ভ্রমণ গাইডলাইন সম্পর্কে তো জানলেন! এবার বলুন মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত সরাসরি নিজ চোখে উপভোগ করতে বের হবার প্ল্যানটি সাজাবেন কখন? কিংবা স্থানটি ভ্রমণে আপনার পূর্ব-অভিজ্ঞতা ঠিক কেমন ছিলো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *