নিঝুম দ্বীপ কিভাবে যাবেন? কোথায় থাকবেন, ভ্রমণকালীন খাওয়া দাওয়া সহ বিস্তারিত ট্যুরিস্ট গাইড!
Skip to content
নিঝুম দ্বীপ কিভাবে যাবেন? কোথায় থাকবেন, ভ্রমণকালীন খাওয়া দাওয়া সহ বিস্তারিত ট্যুরিস্ট গাইড!

নিঝুম দ্বীপ কিভাবে যাবেন? কোথায় থাকবেন, ভ্রমণকালীন খাওয়া দাওয়া সহ বিস্তারিত ট্যুরিস্ট গাইড!

নিঝুম দ্বীপ

বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানসমূহের মাঝে নিঝুম দ্বীপ হলো অন্যতম জনপ্রিয় একটি দর্শনীয় স্থান। যা নিজ সৌন্দর্যের গুণে কেড়ে নিয়েছে লাখো ভ্রমণপিয়াসীর মন। এই দ্বীপকে মোটামুটি সাগরের ছোট ভাইও বলা যায়। সুতরাং যাদের সাগরের প্রতি বাড়তি দূর্বলতা রয়েছে তারা এই নিঝুম দ্বীপ সরাসরি উপভোগ করার সুযোগ মোটেও মিস করবেন না। কেননা বাইরের দেশের লাক্সারি ট্যুর স্পটের চাইতে আমাদের এই দেশীয় নিঝুম দ্বীপের সৌন্দর্য এবং প্রশান্তি কোটি গুণ বেশি। তবে ভ্রমণ করার আগে প্রতিটি দর্শনীয় স্থান সম্পর্কিত ভ্রমণ গাইডলাইন পড়ে নেওয়া উচিত। চলুন আজ জানা যাক নিঝুম দ্বীপ নামক এই দর্শনীয় স্থানটির ভ্রমণ গাইডলাইন সম্পর্কে।

নিঝুম দ্বীপ –  Nijhum Dwip

নিঝুম দ্বীপ পরিচিতি

বাংলাদেশে উপভোগ করার মতো অসংখ্য দ্বীপ রয়েছে। যার মাঝে এই নিঝুম দ্বীপও বেশ জনপ্রিয় একটি দ্বীপ। যদিও আকারে বেশ ছোট এই দ্বীপ। তবে আকারে ছোট হলেও একজন দর্শনার্থীকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দ্বারা সন্তুষ্ট করবার ক্ষেত্রে নিঝুম দ্বীপের জুড়ি মেলা ভার। 

বলে রাখা ভালো বর্তমানে এই নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যান হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। যার স্বীকৃতি মিলেছে সেই ২০০১ সালের ৮ এপ্রিল তারিখে এবং এর স্বীকৃতি প্রদান করেছে স্বয়ং বাংলাদেশ সরকার। নিঝুম দ্বীপকে অনেকে ইছামতী দ্বীপ হিসেবেও চিনে থাকে। যদিও এই নামের পেছনে বেশ যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে এবং সেটি ছিলো দ্বীপটিতে প্রচুর চিংড়ি মাছের প্রাপ্যতা। স্থানীয় ভাষায় এই চিংড়িকে ইছা মাছ বলে থাকেন অনেকে। 

এছাড়াও কেউ কেউ নিঝুম দ্বীপকে চর-ওসমান, বাউল্লার চর হিসেবেও চিনে থাকে। বর্তমানে নিঝুম দ্বীপকে একটি আলাদা ইউনিয়ন হিসেবে ধরে নেওয়া যায়। কারণ ২০১৩ সালে দ্বীপটি জাহাজমারা ইউনিয়ন থেকে আলাদা হয়ে গেছে। 

বলে রাখা ভালো বাল্লারচর, চর ওসমান, কামলার চর এবং মৌলভির চর নিয়ে গড়ে উঠেছে এই নিঝুম দ্বীপ৷ একটি তথ্যসূত্র জানায়, মোট ১৪,০৫০ একরের জমি নিয়ে সে-সময় জেগে উঠে এই নিঝুম দ্বীপ। 

নিঝুম দ্বীপ কোথায় অবস্থিত – Nijhum Dwip Location

নিঝুম দ্বীপের সম্পূর্ণ পরিচিতি সম্পর্কে তো জানা গেলো! এবার চলুন এই দ্বীপটির স্থানীয় দিক সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। শুরুতেই হয়তো বুঝতে পেরেছেন এটি আমাদের দেশীয় একটি দ্বীপ। যা দর্শনীয় স্থান হিসেবে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি পর্যটককে নিয়মিত আকৃষ্ট করে চলেছে। বলে রাখা ভালো এই দ্বীপটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত একটি অনন্য সুন্দর দ্বীপ৷ 

নিঝুম দ্বীপ এর ইতিহাস 

আপনি কি জানেন নিঝুম দ্বীপকে সৌন্দর্যের অন্যতম উৎস হিসেবে উপভোগ করার পাশাপাশি এটিকে একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবেও উপভোগ করা যায়? হ্যাঁ! এই নিঝুম দ্বীপ একই সাথে দর্শনীয় এবং ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে সারা বাংলাদেশে প্রচুর সাড়া ফেলেছে। এই পর্যায়ে চলুন তবে নিঝুম দ্বীপ এর ইতিহাস সম্পর্কে পুরো তথ্য শেয়ার করা যাক। 

ধারণা করা হয় ওসমান নামের একজন বাথানিয়া এই নিঝুম দ্বীপে অনেক আগে বসবাস শুরু করেছিলেন। সেই সময়টাতে তার সাথে ছিলো পোষা মহিষ। প্রথমবারের মতো ওসমান যখন নিঝুম দ্বীপে বসতি গড়ে তুলেন ঠিক তার কয়েক বছর পরপরই অনেকেই পাড়ি জমান এই দ্বীপে। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে জনবসতি। 

শুরুতে সেই বাথানিয়া ওসমানের নামেই Nijhum Dwip সবাই চিনলেও পরবর্তীতে হাতিয়ার সাংসদ আমিরুল ইসলাম কালাম নামটি পরিবর্তন করার প্রয়োজনবোধ করেন এবং একটা সময় গিয়ে এই নাম পরিবর্তনও করে ফেলেন। যার ফলস্বরূপ হিসেবে দ্বীপটিকে আজ আমরা “নিঝুম দ্বীপ” হিসেবে জানার সুযোগ পাচ্ছি।

তবে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো একটা সময় এই দ্বীপে কোনো মানুষজনেরা ভ্রমণ তো দূরে থাক…চলাচল করতেও ভয় পেতো। মূলত স্থানটিতে কেউ যাওয়া-আসা করে না বলেই নতুন করে কেউ স্থানটিতে ভ্রমণ করার সাহস পায় না। যদিও এর পেছনের কারণ হলো এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়! পরবর্তীতে হাতিয়ার সাংসদ আমিরুল ইসলাম কালাম স্থানটিতে ভ্রমণ করতে গিয়ে দেখেন, এতে থাকা প্রাণের অস্তিত্ব একেবারেই হারিয়ে গেছে। জনমানবহীন নিরব স্থানটিকে সে-সময় তিনি “নিঝুম দ্বীপ” নামে অভিহিত করেছেন। সেই থেকে এই দ্বীপের নাম “নিঝুম দ্বীপ”। 

নিঝুম দ্বীপের দর্শনীয় স্থানসমূহ

নিঝুম দ্বীপের সৌন্দর্যসহ এই দ্বীপটিতে দেখার এবং উপভোগ করার মতো বেশ কয়েকটি স্থান কিংবা অংশ রয়েছে। আপনি কি এসব দর্শনীয় স্থানসমূূহ সম্পর্কে জানতে চান? যদি চেয়ে থাকেন তবে আমাদের সাথেই থাকুন। 

প্রথমত বলবো নিঝুম দ্বীপের নিজস্ব সৌন্দর্যের কথা। এতে থাকা চিকচিক করা বালিতে হাঁটতে হাঁটতে অজানায় হারিয়ে যেতে মন চাইবে! এছাড়াও দ্বীপে থাকা নোনা পানিতে বেষ্টিত নিঝুম দ্বীপ কেওড়া গাছের অভয়ারণ্য দেখার সুযোগও হাতছাড়া করা যাবে না। 

যারা সমুদ্র সৈকত উপভোগ করতে ভালোবাসেন তারা চাইলে দমাড় চড় নামক দ্বীপটিও সরাসরি উপভোগ করতে পারেন। এটি মূলত বঙ্গোপসাগরের গড়ে উঠা আরো একটি অংশ। যা দেখতে প্রায় সমুদ্র সৈকতের মতো। 

Nijhum Dwip বনায়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এতে থাকা ম্যানগ্রোভ বনেও ঘুরে আসতে পারেন। বিশেষ করে বনে-বাদাড়ে ঘুরে বেড়ানো দর্শনার্থীদের জন্য এই বন হতে পারে সেরা উপভোগ্য স্থান৷ 

কমলার খাল ঘেঁষে গড়ে উঠা কমলা চরও বেশ মনোমুগ্ধকর একটি দর্শনীয় স্থান৷ কথা দিলাম, পুরো দ্বীপটি হেঁটে হেঁটে ঘুরে আসতে পারলে আপনার সম্পূর্ণ নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণটাই স্বার্থক হয়ে উঠবে। 

যারা Nijhum Dwip ঘুরে আসার প্ল্যান করছেন তারা চোয়াখালী ফরেস্ট ও চোয়াখালী সমুদ্র সৈকত ঘুরে আসার চান্সটাও মিস করবেন না। কেননা বিশাল এই সৈকতে হেঁটে বেড়ানোর মতো ফিলিংস হয়তো অন্য কোনো দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করে পাওয়া যাবে না। 

নিঝুম দ্বীপে যেভাবে যাবেন

সৌন্দর্য কিংবা দর্শনীয় স্থানের পরিমাণের ব্যাপারে শুনে যারা ইতিমধ্যেই Nijhum Dwip ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা জেনে নিন কিভাবে এই দ্বীপে ভ্রমণ করতে যাবেন সে-সম্পর্কে। 

প্রথমত ঢাকা থেকে সরাসরি হাতিয়াতে পৌঁছাতে হবে। এক্ষেত্রে জোয়ার ভাটা মেনে তবেই সময় নির্ধারণ করে নিতে হবে। এরপর প্রায় ২-৩ ঘণ্টা সময় পর ট্রলার পৌঁছালে নোয়াখালী, মাইজদী বা সোনাপুরে পৌঁছাতে হবে। সবশেষে অটোরিকশা কিংবা সিএনজির সাহায্য নিয়ে ঘাঁটে এবং সেখান থেকে সরাসরি নৌকা, স্পিডবোট বা ট্রলারে করে নিঝুম দ্বীপে পৌঁছাতে হবে।

নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণে যেখানে খাওয়া-দাওয়া করবেন

ক্ষিদে পেলে Nijhum Dwip ভ্রমণে স্থানীয় মোটা চালের ভাত, মাছ, মাংস কিংবা রুটি দিয়েই পেট ভরাতে হবে। কেননা এখানে ভালো কোনো হোটেলের ব্যবস্থা নেই। তবে চাইলে এখানে বারবিকিউ পার্টির আয়োজনও করতে পারেন। 

নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণে যেখানে রাত্রিযাপন করবেন

তবে নিঝুম দ্বীপে ভ্রমণ করতে গিয়ে কেবল দিনের ভ্রমণ করা মানেই বোকামি। এক্ষেত্রে যারা রাতটা সেখানেই কাটাতে চান তারা নিঝুম ড্রিম ল্যান্ড রিসোর্ট, নিঝুম রিসোর্ট, হোটেল সোহেলসহ স্থানীয় হোটেলগুলিতে উঠে পড়তে পারেন। 

নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণ এর বাড়তি টিপস

এবার চলুন Nijhum Dwip ভ্রমণকে আরো সুন্দর এবং সুশৃঙ্খল করে তুলতে কিছু বাড়তি টিপস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। এতে করে যেমন দর্শনার্থীদের মাঝে বাড়তি সচেতনতা তৈরি হবে তেমনই দেশের প্রতিটি দর্শনীয় স্থানকে গুরুত্বের সাথে নেওয়ার মন-মানসিকতাও গড়ে উঠবে। 

  • নিঝুম দ্বীপ ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্ল্যান অনুযায়ী আগান
  • ভ্রমণকালীন সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নিন
  • দ্বীপে কোনো ময়লা-আবজর্না ফেলা থেকে বিরত থাকুন
  • স্থানীয়দের হুটহাট ছবি তোলা থেকে বিরত থাকুন
  • একা ভ্রমণ করার সিদ্ধান্তকে এড়িয়ে চলুন

আশা করি Nijhum Dwip সম্পর্কিত এই টিপসগুলি আপনার ভ্রমণকে আরো অর্থবহ করে তুলবে৷ 

ইতি কথা

নিঝুম দ্বীপ নিয়ে সাজানো আয়োজন আজকের মতো এতোটুকুই। পুরো আলোচনাটি কেমন লাগলো জানাতে ভুলবেন না কিন্তু! পরবর্তী যেকোনো ভ্রমণ গাইডলাইন কিংবা ইনফরমেটিভ আলোচনা উপভোগের অনুরোধ জানিয়ে বিদায় নিচ্ছি। ভালো থাকুন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *