২০১ গম্বুজ মসজিদ কিভাবে যাবেন,কোথায় থাকবেন, ভ্রমণকালীন খাওয়া দাওয়া সহ বিস্তারিত ট্যুরিস্ট গাইড!
Skip to content
২০১ গম্বুজ মসজিদ কিভাবে যাবেন,কোথায় থাকবেন, ভ্রমণকালীন খাওয়া দাওয়া সহ বিস্তারিত ট্যুরিস্ট গাইড!

২০১ গম্বুজ মসজিদ কিভাবে যাবেন,কোথায় থাকবেন, ভ্রমণকালীন খাওয়া দাওয়া সহ বিস্তারিত ট্যুরিস্ট গাইড!

২০১ গম্বুজ মসজিদ

মসজিদ মানেই মুসল্লিগণের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নাম। যেখান থেকে সরাসরি আল্লাহ পাকের সাথে সাক্ষাৎ করা যায়। বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ায় এই দেশের আনাচে-কানাচ গড়ে উঠেছে অসংখ্য মসজিদ। সেই প্রাচীনকাল থেকে এ পর্যন্ত গড়ে উঠে সমস্ত মসজিদগুলির মাঝে এমন অনেক মসজিদ রয়েছে যা ইতিহাস এবং স্থাপনাশৈলীর দিক দিয়ে সেরা।

যার ফলে এসব মসজিদ ভ্রমণপিয়াসীদের কাছে হয়ে উঠেছে পছন্দের পর্যটন কেন্দ্র! তেমনই একটি মসজিদের গল্প এবং ভ্রমণ গাইডলাইন সম্পর্কে আলোচনা করবো আজ। আমাদের আজকের আয়োজন মূল বিষয়বস্তু হলো ২০১ গম্বুজ মসজিদ ! চলুন তবে দেরি না করে আলোচনার মূল অংশে মনোযোগ দেওয়া যাক! 

২০১ গম্বুজ মসজিদ টাঙ্গাইল – 201 Gombuj Masjid Tangail

২০১ গম্বুজ মসজিদ পরিচিতি

নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এটি ঠিক কোন ক্যাটাগরির মসজিদ হতে পারে। মূলত ২০১ টি গম্বুজ সাথে নিয়ে মসজিদটিকে তৈরি করা হয়েছিলো। যার ফলে এই গম্বুজের পরিচিতিতেই পরিচিত হয়ে উঠে এই মসজিদটি। পরবর্তীতে এর নাম রটে যায় ২০১ গম্বুজ মসজিদ নামে। বর্তমানে দেশ-বিদেশে সবখানেই এই মসজিদ ২০১ গম্বুজ মসজিদ নামেই পরিচিত। মূলত এর গম্বুজ সংখ্যায় মসজিদটিকে আরো আকর্ষণীয় এবং জনপ্রিয় করে তুলেছে। 

মসজিদটি বেশ পরিচিতি লাভ করার পেছনেও বেশকিছু কারণ রয়েছে। তবে এর প্রধান কারণ হলো এই মসজিদটিকে সারা পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদের স্বীকৃতি দেওয়া। ব্যাপারটা একবার আঁচ করুন তো! কেবল এশিয়াতেই নয়! সারাবিশ্বেই গম্বুজের সংখ্যার দিক দিয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে এই 201 Gombuj Masjid। যা বাংলাদেশের জন্য সত্যিই বেশ গর্বের বিষয়। 

এছাড়াও পরিচিতির দিক দিয়ে মিনারের কারণেও বেশ জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে ২০১ গস্বুজ মসজিদ নামের এই ইসলামিক স্থাপত্যটি। বলা হয়ে থাকে উচ্চতার দিক দিয়ে এই মসজিদের মিনার পৃথিবীর দ্বিতীয় দীর্ঘ কোনো এক মিনার। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে গম্বুজের পাশাপাশি এই মসজিদটিকে দীর্ঘ বা বেশ লম্বা মিনারও জনপ্রিয় করে তুলেছে। 

বলে রাখা ভালো 201 Gombuj Masjid কেবল একটি মসজিদই নয়। এটি একটি মসজিদ কমপ্লেক্সও বটে। যার পুরো নকশাটিকেই সাজানো হয়েছে ২০১ টি গম্বুজ এর সাথে মোট ৯ টি মিনার দ্বারা। বর্তমানে মসজিদটির নির্মাণ কাজ এখনো চলমান থাকায় বলা যায় মসজিদটি ফাইনাল লুক উপভোগ করা এখনো বাকি। সুতরাং চমকের জন্য অপেক্ষা করতে ক্ষতি নেই। 

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো মসজিদটি এখনো পুরোপুরি নির্মিত না হলেও এই সৌন্দর্যের খবর শুনে এখনই তা উপভোগের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন অসংখ্য দর্শনার্থী। বিশালভাবে তৈরি করা এই মসজিদটি যেমন ভেতরের দিক দিয়ে অনন্য তেমনই এর বাইরের স্থাপনাশৈলী যেকারো দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যথেষ্ট! 

২০১ গম্বুজ মসজিদ কোথায় অবস্থিত – 201 Gombuj Masjid Location

পরিচিতি শুনে আপনিও কি মসজিদটি একটিবারের জন্যে হলেও ঘুরে আসতে চান? যদি চেয়ে থাকেন তবে জেনে নিন ২০১ গম্বুজ মসজিদের অবস্থানগত দিক সম্পর্কে। 

মূলত বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের আওতাধীন টাঙ্গাইল জেলার নব্য নির্মিত একটি জনপ্রিয় মসজিদ এই 201 Gombuj Masjid। আরেকটু বিস্তারিত বললে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামেই তৈরি করা হয়েছে এই মসজিদের নামে মুগ্ধ করা ইসলামিক স্থাপত্যটি। এছাড়াও অবস্থানগত দিক দিয়ে ঐতিহাসিক ঝিনাই নদীর তীরে মসজিদটি নির্মিত হওয়ায় যুক্ত হয়েছে বাড়তি সৌন্দর্য। 

মোটকথা এই মসজিদটিকে সরাসরি নিজ চোখে উপভোগ করতে চাইলে আপনার ঢাকার টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার পশ্চিমে যেতে হবে। 

201 Gombuj Masjid Map

২০১ গম্বুজ মসজিদ এর ইতিহাস 

২০১ গম্বুজ মসজিদ মূলত সদ্য নির্মিত একটি মসজিদ। এমনকি এর স্থাপনা কার্যক্রম এখনো পরিচালিত হচ্ছে। সুতরাং বয়সের দিক দিয়ে বেশ নতুনই বটে এই মসজিদটি। 

201 Gombuj Masjid নামক ইসলামিক স্থাপনাটি তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগের উপর ভিত্তি করে। যদিও মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পরপরই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের মাতা মিসেস রিজিয়া খাতুন একবার অর্থ্যাৎ ২০১৩ সালের ১৩ জানুয়ারি মসজিদটি উদ্বোধন করে ফেলেছিলেন। 

বলে রাখা ভালো ২০১৩ সালের দিকে মাত্র ১৫ বিঘা জমির ওপর এই ২০১ গম্বুজ নামের বিশাল মসজিদ ও মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সে অনুযায়ী কাজ শুরু করা হয়। যার তত্বাবধানের দায়িত্ব এবং সমস্ত খরচ বহনের দায়িত্ব ছিলো মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম কল্যাণ ট্রাস্ট নামক একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের উপর৷ 

অসাধারণ দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদটির বয়স বেশি না হলেও ইতিমধ্যে বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীতে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বিশেষ করে মসজিদটির গম্বুজ, মিনার এবং স্থাপনাশৈলী দেখার মতো। 

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো এই মসজিদটি নির্মাণকালীন সময়েই মসজিদটির প্রধান দরজা তৈরির সময় ব্যবহার করা হবে ৫০ মণ পিতল। এছাড়াও পুরো মসজিদটিকে এমনভাবে তৈরি করা হবে যাতে করে এতে প্রায় ১৫ হাজার মুসল্লি একসাথে নামাজ আদায় করার সুযোগ পায়। 

আগেই বলেছি কেবল মসজিদই নয় ২০১ গম্বুজ নামের এই প্রতিষ্ঠানটি একটি মসজিদ কমপ্লেক্সও বটে। সাধারণ মসজিতের পাশাপাশি এতে রয়েছে লাশ রাখার হিমাগার, বিনা মূল্যের হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, দুঃস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা! 

201 Gombuj Masjid এর স্থাপনাশৈলী 

সম্পূর্ণ শিতাতাপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার সাথে তৈরি করা এই ২০১ গম্বুজ মসজিদটিতে ভবিষ্যতে সহস্রাধিক বৈদ্যুতিক পাখাও যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কতৃপক্ষ। এছাড়াও মসজিদের ছাদে ৮১ ফুট উচ্চতার যে গম্বুজটি রয়েছে তার সৌন্দর্য উপভোগের উদ্দেশ্যেও পর্যটকের ভীড় লেগেই থাকে এই ইসলামিক স্থাপনাটিতে। 

201 Gombuj Masjid নাম ইসলামিক স্থাপনাটিতে রয়েছে একটি প্রধান গম্বুজ। যা আয়তনের দিক দিয়ে প্রায় ৮১ ফুটের একটি স্থাপনা-অংশ। ২০১ টি গম্বুজের মাঝে মূলত এই গম্বুজটিকেই প্রধান এবং সবচেয়ে বড় গম্বুজের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ২০০ টির মতো ছোট-বড় গম্বুজ সাথে নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই ২০১ গম্বুজ মসজিদটি। পাশাপাশি মসজিদটিতে রয়েছে ৪৫১ ফুটের মতো একটি উঁচু মিনার। 

স্থাপনার পূর্বে মসজিদটি নির্মাণ করার ক্ষেত্রে ১৫ বিঘা জমি কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং সে অনুযায়ী কাজ শেষ হয়। যার উপর নির্মিত হয়েছে দৈর্ঘ্য ১৪৪ ফুট এবং প্রস্থ ১৪৪ সম্বলিত এই ২০১ গম্বুজ মসজিদটি। ধারণা করা হয় মসজিদটি তৈরি করার সময়ে আনুমানিক ১০০ কোটি টাকা ব্যয় করার প্রয়োজন পড়েছে। 

এছাড়াও মসজিদ কমপ্লেক্সের অংশ হিসেবে স্থাপনাটির সাথে যুক্ত হয়েছে বিনা মূল্যের হাসপাতাল, এতিমখানা এবং হিমাগারের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ! পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ভবিষ্যতে মুসল্লিগণ এবং সাধারণ মানুষের সুবিধার্তে মসজিদের পাশে নির্মাণ করা হবে আলাদা একটি ভবন।

২০১ গম্বুজ মসজিদে যেভাবে যাবেন

মূলত ২০১ গম্বুজ মসজিদ ভ্রমণে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবার আগে আপনাকে পৌঁছে যেতে হবে বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের আওতাধীন টাংগাইল জেলায়। সেখান থেকে সরাসরি পৌঁছে যাবেন গোপালপুর উপজেলার অন্তর্গত নগদা শিমলা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে এবং গ্রামটিতেই গেলেই প্রবেশমুখেই চোখে পড়বে এই ২০১ গম্বুজ মসজিদ নামের ইসলামিক স্থাপনাটি। 

২০১ গম্বুজ মসজিদ ভ্রমণে যেখানে খাওয়া-দাওয়া করবেন

201 Gombuj Masjid ভ্রমণে খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রে চাইলে গ্রামের লোকাল দোকানগুলি থেকে শুকনো খাবার সংগ্রহ করে নিতে পারেন। দুপুরের খাবারের ক্ষেত্রে টাঙ্গাইল জেলার ভালো ভালো খাবার হোটেলগুলির সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও নষ্ট হবে না এমন খাবার সাথে করে বাড়ি থেকে নিয়েও আসতে পারেন। 

২০১ গম্বুজ মসজিদ ভ্রমণে যেখানে রাত্রিযাপন করবেন

201 Gombuj Masjid ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণ দিনে গিয়ে দিনের বেলাতেই ফিরে আসা সম্ভব হয়। তবুও যারা এই ভ্রমণে রাতটা বাইরে কাটাতে চান তারা টাঙ্গাইল ও এলেঙ্গায় বেশকিছু ভালো মানের হোটেল এবং রিসোর্টের সাহায্য নিতে পারেন। পাশাপাশি সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উপজেলা ধনবাড়ী নবাব প্যালেসেও ভালোভাবে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। 

ইতি কথা

২০১ গম্বুজ মসজিদ নিয়ে এই ছিলো আমাদের আজকের আযোজন। পরবর্তী কোনো এক ভ্রমণ গাইডলাইনে আবারো আমরা এক হবো! ততদিন পর্যন্ত ভালো রাখুন এবং মনকে সময় দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *