Skip to content
Home » মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী | পরিচিতি | ইতিহাস | স্টপেজ | টিকিটমূল্য

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী | পরিচিতি | ইতিহাস | স্টপেজ | টিকিটমূল্য

    মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

    বাংলাদেশে ৭৮৯/৭৯০ নাম্বার ট্রেনের নাম হলো মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন। যারা এই ট্রেনটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান মূলত তাদের জন্যেই আমাদের আজকের এই আলোচনা। আজ আমরা আলোচনা করবো মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি, পরিচিতি, ইতিহাস স্টপেজসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে। সুতরাং আমাদের সাথেই থাকুন। 

    মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী – Mohongonj Railway Station

    মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচিতি

    ঢাকা−মোহনগঞ্জ রেলপথে চলাচল করার ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে এই মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন। সুতরাং যুক্তি অনুযায়ী যাদের ঢাকা−মোহনগঞ্জ রেলপথে যাতায়াত করবার প্রয়োজন পড়ে তারা এই মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সার্ভিস নিয়ে থাকে। 

    বলে রাখা ভালো মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন কিন্তু বাংলাদেশের একটি আন্তঃনগর ট্রেন। যা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কতৃপক্ষ নিজেই! ট্রেনটির যাত্রাপথ শুধুমাত্র এটি ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত। সুতরাং যারা এই পথ নিয়মিত আসা-যাওয়া করেন তারা এই ট্রেনটির মাধ্যমে যাতায়াত করতে পারেন। 

    প্রতিদিন প্রায় ২১০ কিলোমিটার বা ১৩০ মাইলের মতো পথ অতিক্রম করে এই মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন নামক যানটি। আর যদি বিরতি বা স্টপেজের কথা বলি তবে বলবো এই ট্রেনটি সর্বমোট ৯ টি স্টপেজে নিয়মিত থাকে। উক্ত ৯ টি স্টপেজ কি কি সে-সম্পর্কে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। ট্রেনটির ট্র্যাকের মালিক হিসেবে বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কতৃপক্ষ এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে ঢাকা। 

    যারা ট্রেনটির মাধ্যমে ভ্রমণ করতে চান তারা মালপত্র রাখার স্থান হিসেবে ট্রেনের ভেরতকার ওভারহেড রেক ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও ট্রেনটি আসন বিন্যাস, খাদ্য সুবিধা এব্য ঘুমানোর ব্যবস্থাও উপভোগ করতে পারেন। 

    ২৯০০ শ্রেণীর লোকোমোটিভ দিয়ে চালানো এই মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে আগে ভ্যাকুয়াম কোচে ১৪/২৮ লোডে চালানো হতো। এই ভ্যাকুয়াম কোচটি ছিলো হলুদ এবং সবুজ রংয়ের। তবে বর্তমানে এই ট্রেনটিকে এয়ার-ব্রেক কোচের সাহায্যে চালানো হয়। যা তৈরি করা হয়েছে পিটি ইনকার দ্বারা। বলে রাখা ভালো বর্তমানে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে সর্বমোট ৬৫৬টি আসন রয়েছে। 

    মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের ইতিহাস 

    মূলত মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের খুব একটা বলার মতো ইতিহাস নেই। এই ট্রেনটি তার যাত্রা শুরু করেছিলো আজ থেকে প্রায় ৬ বছর আগে অর্থ্যাৎ ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬ তারিখে। কিছু রোলিং স্টক ছাড়া ট্রেনটির আরকিছুই খুব একটা পরিবর্তন করা হয়নি। এমনকি শুরুতে এটির রুট যেমন এবং যতখানি ছিলো আজ ঠিকই তেমন এবং ততখানিই রয়েছে। 

    মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

    এবার চলুন মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সার্ভিস নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্থ্যাৎ মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। 

    • মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন ঢাকা টু মোহনগঞ্জ রুটে যাত্রা শুরু করে ১৪ঃ২০ মিনিটে এবং সে যাত্রা শেষ হয় ২০ঃ৪০ মিনিটে। 
    • আবার মোহনগঞ্জ টু ঢাকা রুটের ক্ষেত্রে ট্রেনটি ২৩ঃ০০ মিনিটে যাত্রা শুরু করে তা শেষ করে ০৫ঃ০০ মিনিটে। 

    মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ

    শুরুতেই বলে রাখি মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ সংখ্যা সর্বমোট ৯ টি। আজ আমরা আলোচনা করবো মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত যাত্রাপথে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সকল স্টপেজ এবং এর সময়সূচি সম্পর্কে। 

    • বিমান বন্দর রেলওয়ে স্টেশনে থামে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আসার সময় ১৪ঃ৪৭ মিনিটে এবং মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে আসার সময় ০৪ঃ২০ মিনিটে।
    • গফরগাঁ রেলওয়ে স্টেশনে থামে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আসার সময় ১৬ঃ১৭ মিনিটে এবং মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে আসার সময় ০২ঃ৫২ মিনিটে। 
    • ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে থামে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আসার সময় ১৭ঃ০৫ এবং মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে আসার সময় ০১ঃ৪৫ মিনিটে। 
    • শ্যামগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে থামে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আসার সময় ১৮ঃ২০ মিনিটে এবং মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে আসার সময় ০০ঃ৪৫ মিনিটে। 
    • নেত্রকোণা রেলওয়ে স্টেশনে থামে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আসার সময় ১৮ঃ৫০ মিনিটে এবং মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে আসার সময় ০০ঃ১০ মিনিটে। 
    • ঠাকুরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনে থামে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আসার সময় ১৯ঃ২০ মিনিটে এবং মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে আসার সময় ২৩ঃ৪০ মিনিটে। 
    • বারহাট্টা রেলওয়ে স্টেশনে থামে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আসার সময় ১৯ঃ৩৭ মিনিটে এবং মোহনগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে আসার সময় ২৩ঃ২০ মিনিটে। 

    মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটমূল্য

    মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির সিট রয়েছে। এসব সিটের ক্ষেত্রে সুবিধা অনুযায়ী আলাদা আলাদা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান সময় অনুযায়ী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটমূল্য সম্পর্কিত সঠিক তথ্য জানতে নিচের পয়েন্টগুলিতে ফোকাস করুন। 

    • শোভন চেয়ার সিটের দাম ২২০ টাকা
    • প্রথম সিটের দাম ৪২৬ টাকা
    • এসি বার্থ সিটের দাম ৪৯০ টাকা
    • শোভন সিটের দাম ১৮৫ টাকা

    বলে রাখা ভালো এই নির্ধারিত মূল্যের সাথে কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী ১৫% ভ্যাটও যুক্ত করা হয়েছে। অর্থ্যাৎ টিকিট ক্রেতাদের আলাদা করে কোনো ভ্যাট পরিশোধ করবার দরকার পড়বে না। 

    মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের বন্ধের দিন

    সাধারণত বাংলাদেশের বিভিন্ন ট্রেনকে নিয়মিত সার্ভিস দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কতৃপক্ষ। তবে সংগত কারণে কিছু কিছু ট্রেনকে সপ্তাহে ১/২ দিন সার্ভিস অফ রাখারও নির্দেশনা দিয়েছে কতৃপক্ষ। এক্ষেত্রে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের অফ ডে হিসেবেও সপ্তাহের ১ টি দিনকে সেট করা হয়েছে এবং সেটি হলো সোমবার। বাকি ৬ দিন একই নিয়মে একই রুটিন অনুযায়ী সার্ভিস পরিচালনা করবে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন কতৃপক্ষ। 

    মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের সুবিধা 

    যারা ট্রেন ভ্রমণেন প্রতি কিছুটা দূর্বল তাদের জন্যে মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন হতে পারে পারফেক্ট চয়েজ। কেনো বলছি? এর কারণ জানতে হলে নিচে আলোচিত ট্রেনটিতে ভ্রমণের সুবিধাগুলি সম্পর্কে জেনে নিন। 

    • খাবারের সুবিধা 
    • ঘুমানোর সুবিধা 
    • মালামাল নিরাপদ রাখার সুযোগ 
    • সাশ্রয়ী মূল্যের টিকিট
    • ৯ টি স্টপেজ 
    • সঠিক আসন বিন্যাস
    • ঘুমানোর জন্যে সুব্যবস্থা

    মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন ভ্রমণের বাড়তি টিপস

    • অন্তত ১৫ মিনিট আগে থেকে স্টেশনে অপেক্ষা করুন
    • চলমান ট্রেনে উঠার চেষ্টা করবেন না
    • ট্রেনের বাইরে হাত রাখবেন
    • ট্রেনের দরজায় দাঁড়াবেন না
    • নিজের মালামাল সঠিক স্থানে গুছিয়ে রাখুন

    ইতি কথা

    আশা করি আপনার পরবর্তী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেন ভ্রমণ শতভাগ সফল হবে। আর হ্যাঁ! ট্রেন ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বাড়তি সতর্কতার দিকে অবশ্যই মনোযোগ রাখবেন। আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে যেনো বিপদকে আমন্ত্রণ জানানো না হয় সে ব্যবস্থা আপনার নিজেকেই করতে হবে।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *