মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভ্রমণের বাড়তি টিপস! বাংলাদেশ ভ্রমণ গাইড » BD Tourist Guide
Skip to content
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভ্রমণের বাড়তি টিপস!

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভ্রমণের বাড়তি টিপস!

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

কজন বাঙালি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখাটা আমাদের প্রত্যেকেরই গুরুত্বপূর্ণ করণীয়। কেননা যে জাতি তার শেকড় ভুলে যায় সে জাতি কখনোই সামনে এগিয়ে যেতে পারে না। যেকোনো ক্যাটাগরির ইতিহাস সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে বেশকিছু মাধ্যমকে কাজে লাগানো যায়।

এসব মাধ্যমের মাঝে বিভিন্ন জাদুঘরে থাকা নিদর্শন অন্যতম। তেমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত নিদর্শন দ্বারা সাজানো হয়েছে ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। ফলে এই জাদুঘর ভ্রমণ করা মানেই ইতিহাসের কাছাকাছি গিয়ে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে জেনে নেওয়া। চলুন তবে আজ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভ্রমণ গাইডলাইন সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। 

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর – Muktijuddho Jadughar

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিচিতি

শুরুতেই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এর পরিচিতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বস্তুর এক দুর্লভ সংগ্রহশালা হিসেবে একটা সময় রাজধানীতে তৈরি করা করা হয়েছিলো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নামক এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি। 

মুক্তিযুদ্ধ এবং এর ইতিহাস সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের গুরুত্ব দেশের মানুষের কাছে প্রায় দেখার মতো। কেননা এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটিতে ভ্রমণের পরবর্তী সময়ে একজন পর্যটক হয়ে উঠে সেই ইতিহাস সম্পর্কে জানা একজন সচতেন বাঙালি হিসেবে। আমরা মোটামুটি সকলেই জানি সামনের পথগুলিতে হোচট না খেয়ে সফলতার সাথে চলার ক্ষেত্রে নিজ জাতির ইতিহাস সম্পর্কে জানা থাকাটা কতটা জরুরি। 

ঠিক এই কাজটাই করছে Muktijuddho Jadughar নামক বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি। জাদুঘরটিতে রয়েছে ইতিহাস পরিক্রমা মেনে প্রাগৈতিহাসিক বাংলার ইতিহাস সম্পর্কিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। যা সেসময়কার পরিস্থিতি এবং পরিবেশ সম্পর্কে প্রতিটি দর্শনার্থীকে জানাতে সাহায্য করবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো এই জাদুঘরে ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির পাশাপাশি সেসব নিদর্শনের বর্ণনারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে নতুন যেকোনো দর্শনার্থী ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলি সম্পর্কে সহজেই বিস্তারিত জেনে নিতে সক্ষম হবে। 

সাধারণত বাংলাদেশে অধিক সংখ্যক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ঐতিহাসিক নিদর্শনের ব্যবস্থা করা আছে এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে। অর্থ্যাৎ গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলির সংখ্যার দিক দিয়ে সারাদেশে তুলনামূলক বড়সড় একটি জাদুঘর হিসেবে ধরে নেওয়া যায় এই স্থাপনাটিকে। 

বলে রাখা ভালো ঢাকার এই Muktijuddho Jadughar কিন্তু বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি জাদুঘর। মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুর্লভ বস্তুর সন্ধান এবং ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারার কারণে এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিটি সচেতন বাঙালির কাছে অধিক গুরুত্ব বহন করে। মূলত ৮ জন ট্রাস্টির হাত ধরে গড়ে উঠা সেই ছোট্ট মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটি আজ হয়ে উঠেছে আমাদের দেশীয় ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসস্থল হিসেবে। 

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কোথায় অবস্থিত – Muktijuddho Jadughar Location

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এর অবস্থানগত দিক সম্পর্কে এই পর্যায়ে জেনে নেওয়া যাক। মূলত বাংলাদেশের বর্তমান রাজধানী ঢাকাতেই এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর নামক প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের পুরো ঠিকানাটা হলো ঢাকার এফ-১১/এ-বি, সিভিক সেক্টর, আগারগাঁও! সুতরাং যারা ঢাকায় অবস্থান করছেন তাদের ক্ষেত্রে এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ভ্রমণ করে নেওয়াটা খুব একটা কঠিন কিছু মনে হবে না। 

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এর ইতিহাস 

এবার আসুন Muktijuddho Jadughar তৈরির ইতিহাস বা শুরুর দিককার গল্প সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। শুরুতেই বলেছিলাম এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটির কার্যক্রম অস্থায়ীভাবে একটি সাবেকী ভবন ভাড়া নিয়ে শুরু করা হয়। সময়টা ছিলো ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ তারিখ এবং ভবনটি ছিলো সেগুনবাগিচার একটি সাধারণ ভবন।

পরবর্তীতে অর্থ্যাৎ এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরটির কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই অসংখ্য মানুষের সমর্থন ও সহযোগিতা পাওয়া শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। ধীরে ধীরে এই জাদুঘরটিতে স্থান পেতে থাকে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বস্তু। যা জাদুঘরটি সমৃদ্ধ করে তুলে এবং বেশ গুরুত্বপূর্ণ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক পরিপূর্ণ একটি জাদুঘরে পরিণত করে তুলে। 

সময়টা ২০১১ সালের ৪ মে তারিখ! এসময় দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে এর নতুন ভবনের জন্য বরাদ্দকৃত জায়গায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এক্ষেত্রে পুরো জাদুঘরটির নকশা নির্ধারণ করাকালীন সময়ে নভেম্বর ২০০৯-এ উন্মুক্ত স্থাপত্য নকশা নামক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। মূলত এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এর বর্তমান স্থাপনার নকশা নির্ধারণ করা হয়। 

ধীরে ধীরে প্রায় পনেরো হাজারেরও অধিক সংগ্রহ জোগাড় করতে সক্ষম এই Muktijuddho Jadughar। ঐতিহাসিক নিদর্শনের পরিমাণ বাড়তে থাকলে এবং প্রতিষ্ঠানটির জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বেড়ে গেলে পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। এসময়টাতে আগারগাঁওয়ে নির্মিত নতুন ভবনে পুরোপুরিভাবে পূর্বের সেই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে স্থানান্তরিত করা হয়। 

Muktijuddho Jadughar এর স্থাপনাশৈলী 

বেশ আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে প্রায় আড়াই বিঘা জমির উপর তৈরি করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রী, আলোকচিত্র থেকে শুরু করে অস্ত্রসহ মুক্তিযুদ্ধের সাথে সম্পৃক্ত অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শনের সমাহার এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের নতুন ভবনের গ্যালারিগুলো দেখার মতো। 

বেশ আধুনিক এবং ঐতিহাসিক নিদর্শনের পরিমাণ চোখে পড়বার মতো হওয়ায় এই জাদুঘরে সারাবছরই দর্শনার্থীদের ভীড় লেগেই থাকে। মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও ইতিহাসকে ফোকাস করা সাজানো প্রতিটি গ্যালারি দর্শকদের উদ্দেশ্যে বর্তমানে উন্মুক্ত! পুরো মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভবনটিতে রয়েছে ৪ টি বড় বড় গ্যালারি। প্রতিটি গ্যালারি আবার পরিমাপগত দিক দিয়ে প্রায় ২১ হাজার বর্গফুট আয়তনের।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন ছাড়াও এতে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং জাতীয় চার নেতার ব্রোঞ্জের তৈরি ম্যুরাল বেশ জনপ্রিয়তা কুড়িয়েছে। দর্শকের আকর্ষনের দিক দিয়ে এসব ম্যুরাল বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও জাদুঘরটিতে শোভা পাচ্ছে পোড়ামাটির শিল্প, টেরাকোটা, নানান ধরণের ঐতিহাসিক নিদর্শন, ব্রিটিশ আমলে বিভিন্ন ঐতিহাসিক বস্তুসহ অসংখ্য ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র! 

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে যেভাবে যাবেন

মূলত মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ঘুরতে যেতে হলে শুরুতেই আপনাকে পৌঁছে যেতে হবে ঢাকা জেলায়। চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের যেকোনো জেলা থেকে ঢাকায় যাওয়ার ক্ষেত্রে সহজ পথ হিসেবে সড়কপথ বেঁছে নিতে পারেন। ঢাকায় গিয়ে ঢাকার এফ-১১/এ-বি, সিভিক সেক্টর, আগারগাঁওয়ে পৌঁছে গেলে দেখা মিলবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এর৷ 

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভ্রমণে যেখানে খাওয়া-দাওয়া করবেন

Muktijuddho Jadughar ভ্রমণের ক্ষেত্রে যদি খাওয়া-দাওয়ার পর্বটিও সেরে নিতে চান তবে আপনাকে আগারগাঁও এর যেকোনো ভালো খাবারের হোটেলের শরণাপন্ন হতে হবে। আগারগাঁও অঞ্চলে অসংখ্য খাবারের হোটেল রয়েছে। এর যেকোনো একটির সাহায্য নিয়ে নাস্তা কিংবা দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করে নিতে পারেন। এছাড়াও রাত্রিযাপন এর উদ্দেশ্যে কোনো থাকবার হোটেলে উঠলে সেখান থেকেও খাবার সংগ্রহ করে নিতে পারেন। 

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভ্রমণে যেখানে থাকবেন

তবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভ্রমণে যদি রাত কাটানোর দরকার পড়ে তবে ঢাকা কিংবা ঢাকার আগারগাঁও অঞ্চলের যেকোনো থাকবার হোটেলে উঠে পড়তে পারেন। সবচেয়ে বেশি ভালো হয় ঢাকার কোনো হোটেলে উঠে পড়তে পারলে। 

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভ্রমণের বাড়তি টিপস

এই পর্যায়ে আমরা Muktijuddho Jadughar ভ্রমণ সম্পর্কিত বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস সম্পর্কে জানবো। যা হয়তো আপনার পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভ্রমণকে আরো অর্থবহ এবং সহজ করে তুলবে। চলুন তবে শুরু করা যাক! 

  • টিকিট প্রতি ২০ টাকা মূল্য পরিশোধ করে তবেই ভবণে প্রবেশ করতে হবে
  • গরমকালে এই জাদুঘর ১০টা থেকে ৬টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ রয়েছে 
  • শীতকালে ১০-৫ টা পর্যন্ত সময়ে এই জাদুঘর খোলা থাকে
  • মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুমতি ছাড়া ছবি তোলা নিষেধ
  • ঘোরাঘুরির সময়ে জাদুঘরের সংরক্ষিত এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকুন 

ইতি কথা

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে থাকা প্রতিটি নিদর্শন দর্শনার্থীদের এক একটি ইতিহাসের অংশ সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে। কতটা ত্যাগ স্বীকার করার পর এই দেশটা স্বাধীন হয়েছে তা উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে একটিবারের জন্যে হলেও এই মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ভ্রমণ করে আসা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *