মহামায়া লেক কিভাবে যাবেন,কোথায় থাকবেন, ভ্রমণকালীন খাওয়া দাওয়া সহ বিস্তারিত ট্যুরিস্ট গাইড!
Skip to content
মহামায়া লেক কিভাবে যাবেন,কোথায় থাকবেন, ভ্রমণকালীন খাওয়া দাওয়া সহ বিস্তারিত ট্যুরিস্ট গাইড!

মহামায়া লেক কিভাবে যাবেন,কোথায় থাকবেন, ভ্রমণকালীন খাওয়া দাওয়া সহ বিস্তারিত ট্যুরিস্ট গাইড!

মহামায়া লেক

পরিবার নিয়ে  প্রাকৃতিক পরিবেশে কোথাও ঘুরতে যেতে চাচ্ছেন? কিন্তু সময়ের কথা ভাবলে আবার দুশ্চিন্তাও হচ্ছে,কেননা কম সময়ে ভালো কোনো প্রাকৃতিক টুরিস্ট স্পট পাবেন কিনা যেখানে কাটানো যাবে আনন্দের একটি দিন।

মহামায়া লেক – Mohamaya Lake

মহামায়া লেক কোথায় অবস্থিত – Mohamaya Lake Location

আমাদের চারপাশেই কিন্তু অনেক মনোমুগদ্ধকর জায়গা আছে যার অনেকগুলোর নাম আমাদের অগোচরে রয়ে গেছে। আজ এমন একটি টুরিস্ট স্পট এর কথা বলবো যেখানে ইচ্ছে করলেই পরিবার নিয়ে একদিনের দারুন একটি ট্যুর দিতে পারবেন। জায়গাটির নাম হলো মহামায়া লেক। সাধারণত কাপ্তাই হ্রদের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম লেক বলা হয় মহামায়া লেককে। 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে পরিবেষ্ঠিত এই লেক চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ৪৫কিলোমিটার দূরে মিরসরাই উপজেলার অবস্থিত। লেকটির আয়তন ১১ বর্গকিলোমিটার। মহামায়া লেকের চারপাশে রয়েছে ছোট ছোট অনেক পাহাড় এবং আরো রয়েছে মহামায়া লেকের মাঝে প্রাকৃতিক ঝর্না।  নৌকা ভ্রমনের সময় লেক হতে এই পাহাড়গুলো এবং ঝর্ণার দৃশ্য ভ্রমণকে করে তোলে অসাধারণ। 

মিরসরাই উপজেলার ৮ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের ঠাকুরদিঘী বাজার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার পূর্বে পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে তোলা ১১ বর্গ কিলোমিটারের কৃত্রিম লেক নিয়ে গঠিত এই মহামায়া লেক। 

১৯৯৯ সালে এই এলাকার জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ি ঢল নিরসন এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষিখাতে সেচ সুবিধার লক্ষ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড মহামায়া সেচ প্রকল্পের অংশ হিসেবে উক্ত মহামায়া খালের ওপর স্লুইস গেট স্থাপন করে। সড়ক ও জনপথের মহাসড়কের অধিগ্রহণের অংশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণ অংশে স্লুইস গেট অপারেটিংয়ের জন্য সেখানে সড়ক নির্মাণ করে পাউবো। এবং আরো বলা যায়  তখনকার সময়ে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য মিরসরাই উন্নয়ন সংসদ নামের স্থানীয় সামাজিক উন্নয়ন সংগঠন সড়কের দু’পাশে শতাধিক গাছ রোপণ করে।

মহামায়া লেকের টিকেট মূল্য

মহামায়া ইকো পার্কে (Mohamaya Eco Park) প্রবেশের জন্যে জনপ্রতি ১০ টাকা করে দিতে হয়।

কায়াকিং ও নৌ ভ্রমণ খরচ

আপনাদের সুবিধার জন্য লেকে কায়াকিং করার বিরাট সুযোগ ও করে দিয়েছে। একটা কায়াকে দুইজন বসতে পারবেন। প্রতি ঘন্টার কায়াকিং ভাড়া ৩০০ টাকা করে নিবে, ৩০ মিনিটের জন্যে ভাড়া ২০০ টাকা। যদি শিক্ষার্থী হন তাহলে ডিসকাউন্ট পাবেন সেক্ষেত্রে এক ঘন্টার জন্যে দিতে হবে ২০০ টাকা এবং ৩০ মিনিটের জন্যে ১৫০ টাকা। কায়াকিং করা যায় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫:৩০ পর্যন্ত। এর মধ্যে যে কোন সময় করতে পারবেন। লেকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ইঞ্জিন বোট আছে। ৮-১০ জন নিয়ে ঘুরে বেড়াতে সক্ষম নৌকা এক ঘন্টা ঘুরিয়ে দেখাবে আশেপাশে ঝর্ণা সহ ভাড়া ৮০০-১০০০ টাকা। ১৫-২০ জন নিয়ে ঘুড়ে বেড়াতে সক্ষম ইঞ্জিন নৌকা ভাড়া করতে এক ঘন্টার জন্যে লাগবে ১২০০-১৫০০ টাকা।

লেকে গিয়ে কীভাবে খাওয়া দাওয়া করবেন

পার্কে নিজস্ব ভাবে কোন খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা নেই। নিজ থেকে খাবার নিয়ে যেতে হবে। ঠাকুরদিঘী বাজারে ছোট হোটেল আছে দেশী খাবার খেতে পারবেন। আবার চাইলে মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড বাজারে গেলে মোটামুটি মানের আরো কিছু খাওয়ার হোটেল পাবেন সেখান থেকে খেয়ে নিতে পারবেন। সীতাকুন্ডের পৌরসভার সামনে আল আমিন হোটেলের বেশ সুনাম রয়েছে। চাইলে ওইখান থেকে খেয়েও যেতে পারবেন। বা প্যাকেটিং করে নিয়ে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

মিরসরাইয়ে থাকার মত তেমন ভালো কোন আবাসিক হোটেল নেই। যদি থাকতে চান তাহলে মিরসরাই এর কাছে সীতাকুণ্ডে কিছু সাধারণ মানের হোটেল আছে সেখানে থাকতে পারবেন। হোটেল সৌদিয়ায় ৬০০ থেকে ১৬০০ টাকায় বিভিন্ন মানের রুম পাবেন এবং সাইমুন ও অন্য আবাসিক হোটেলে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকায় থাকতে পারবেন। হোটেল সৌদিয়ায় বুকিং দিতে ফোন করতে পারেন 01991-787979, 01816-518119 নাম্বারে।

তবে আরো ভালো কোথাও থাকতে যদি কোথাও থাকতে চান তাহলে  আপনাকে চট্টগ্রাম শহরে চলে যাওয়াই সবচেয়ে উত্তম বলে মনে করি। মিরসরাই থেকে চট্টগ্রাম যেতে ১ঘন্টা ৩০মিনিটের মত লাগবে। অংলকার মোড়ে মোটামুটি মানের থাকার মত হোটেল পাবেন। অথবা চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এর স্টেশন রোড এলাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল আছে, পছন্দ মতো কোন এক হোটেলে রাত্রিযাপন করতে পারেন।

মহামায়া লেক যাওয়ার উপায়

ঠাকুরদিঘী বাজার থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার পূর্ব দিকে এই মহামায়া লেক অবস্থিত। তাই দেশের যে জায়গা থেকেই আসতে চান না কেন আপনাকে প্রথমে চট্টগ্রাম জেলার মিরসরাই উপজেলার এর ঠাকুরদিঘী বাজার আসতে হবে।

ঢাকা থেকে কীভাবে মহামায়া লেকে যাবেন

  • ঢাকা থেকে বাসে যদি বাসে করে আসতে চানঃ তাহলে ঢাকার যে কোন জায়গা থেকে চট্টগ্রাম গামী যে কোন বাসে করেই যেতে পারবেন মিরসরাই এর ঠাকুরদিঘী বাজার। এস আলম, শ্যামলি, সৌদিয়া, ইউনিক, হানিফ, ঈগল, এনা প্রভৃতি পরিবহনের নন এসি বাস ভাড়া ৪২০- ৪৮০ টাকা। আবার এসি বাসের মধ্যে গ্রিনলাইন, সৌদিয়া, সোহাগ, টি আর এইসব বাস ভাড়া ৮০০-১১০০ টাকা ও নিতে পারে। আপনার পছন্দ মত বাসে এসে মিরসরাই এর আগে ঠাকুরদিঘী বাজারে নেমে যেতে হবে। এছাড়াও আপনি চাইলে সায়েদাবাদ বাস স্ট্যান্ড থেকে স্টার লাইন পরিবহনে ফেনী (ভাড়া ২৮০ টাকা) এসে লোকাল বাসে ৩০-৪০ টাকা ভাড়ায় মিরসরাই এর আগে ঠাকুরদিঘী বাজার যেতে হবে। জনপ্রতি ১৫ টাকা সিএনজি ভাড়ায় চলে যেতে পারবেন মহামায়া ইকোপার্ক এর মেইন গেইটে। অথবা ও চাইলে সিএনজি রিজার্ভ করে (ভাড়া ৮০ -১২০ টাকা) চলে আসবেন মহামায়া ইকো পার্ক। এই ইকো পার্কের ভিতরেই মাহামায়া লেকের অবস্থান।
  • ঢাকা থেকে যদি ট্রেনে করে আসতে চানঃ প্রথমে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গামী যে কোন আন্তঃনগর ট্রেনে এসে ফেনী স্টেশনে নামতে হবে। শ্রেনী ভেদে ট্রেন ভাড়া জন প্রতি ২৬৫-৮০০ টাকা। ফেনী স্টেশন থেকে ১০-১৫ টাকা রিক্সা/অটো করে ফেনী মহিপাল বাস স্ট্যান্ড যেতে হবে। সেখান থেকে লোকাল বাসে ৩০-৪০ টাকা ভাড়ায় মিরসরাই এর আগে ঠাকুরদিঘী বাজার নেমে যেতে হবে। অথবা আপনি চাইলে ৯০-১২০ টাকা ভাড়ায় মেইল ট্রেনে আসলে “চিনকি আস্তানা” স্টেশনে নেমে যেতে পারবেন। সেখান থেকে অটো/ লেগুনা/সিএনজি দিয়ে ২০-২৫ টাকা ভাড়ায় ঠাকুরদিঘী যেতে পারবেন। জন প্রতি ১৫-২০ টাকা সিএনজি ভাড়ায় চলে যেতে পারবেন মহামায়া ইকোপার্ক এর মেইন গেইটে। অথবা সিএনজি রিজার্ভ করে (ভাড়া ৮০ -১২০ টাকা) চলে আসবেন মহামায়া ইকো পার্ক। এই ইকো পার্কের ভিতরেই মাহামায়া লেকের অবস্থান।

সিলেট থেকে কীভাবে মহামায়া লেকে আসবেন 

আপনি চাইলে সিলেট থেকে বাস কিংবা ট্রেনে আসতে পারবেন। চট্টগ্রাম গামী যে কোন বাসে উঠে নেমে যেতে হবে মিরসরাই এর আগে ঠাকুরদিঘী বাজারে। যদি ট্রেনে করে আসতে চান তাহলে আন্তঃনগর ট্রেন পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ও উদয়ন এক্সপ্রেসে কিংবা মেইল ট্রেন জালালাবাদ এক্সপ্রেসে ফেনী স্টেশন পর্যন্ত এসে নেমে যেতে হবে। ফেনী স্টেশন থেকে ১০-১৫ টাকা রিক্সা/অটো দিয়ে ফেনী মহিপাল বাস স্ট্যান্ড যেতে হবে। সেখান থেকে লোকাল বাসে ৩০-৪০ টাকা ভাড়ায় মিরসরাই এর আগে ঠাকুরদিঘী বাজার নেমে যেতে হবে।

অথবা ৯০-১২০ টাকা ভাড়ায় মেইল ট্রেনে আসলে “চিনকি আস্তানা” স্টেশনে নেমে যেতে পারবেন। আবারো সেখান থেকে অটো/লেগুনা/সিএনজি দিয়ে ২০-২৫ টাকা ভাড়ায় ঠাকুরদিঘী যেতে পারবেন। ঠাকুরদিঘী থেকে জন প্ৰতি ১৫-২০ টাকা সিএনজি ভাড়ায় চলে যেতে পারবেন মহামায়া ইকোপার্ক এর মেইন গেইটে। অথবা সিএনজি রিজার্ভ করে (ভাড়া ১০০-১২০ টাকা) চলে আসবেন মহামায়া ইকো পার্ক।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস 

  • ভ্রমণে অতিরিক্ত কাপড় নিবেননা। পর্যাপ্ত পরিমান পানি সাথে রাখবেন। 
  • অবশ্যই মোবাইল ফোনের চার্জার নিয়ে যাবেন৷ এবং সাথে একটি পাওয়ার ব্যাংক রাখার চেষ্টা করবেন।
  • প্রয়োজনীয় ঔষধ সাথে নিবেন।

সতর্কতা

  • লাইফ জ্যাকেট ছাড়া ভুলেও কায়াকিং করবেননা।
  •  ময়লা বা প্লাস্টিক ফেলে পরিবেশ নষ্ট করবেননা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *