নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা কিভাবে যাবেন? কোথায় থাকবেন, ভ্রমণকালীন খাওয়া দাওয়া সহ বিস্তারিত ট্যুরিস্ট গাইড! বাংলাদেশ ভ্রমণ গাইড » BD Tourist Guide
Skip to content
নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা কিভাবে যাবেন? কোথায় থাকবেন, ভ্রমণকালীন খাওয়া দাওয়া সহ বিস্তারিত ট্যুরিস্ট গাইড!

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা কিভাবে যাবেন? কোথায় থাকবেন, ভ্রমণকালীন খাওয়া দাওয়া সহ বিস্তারিত ট্যুরিস্ট গাইড!

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা

ঝর্ণা ভালো লাগে না এমন কোনো ভ্রমণপিয়াসীকে হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। কেননা একজন ভ্রমণপিয়াসীর কাছে ঝর্ণার মতো দর্শনীয় স্থানগুলির গুরুত্ব ফেলে দেওয়ার মতো নয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক দিয়ে ভরপুর এই দেশে ঝর্ণার সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। চলুন আজ তেমনই একটি ঝর্ণা এবং এর ভ্রমণ গাইডলাইন সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। তবে তার আগে বলে নিই আমাদের আজকের আলোচনার মূল বিষয় হলো নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ভ্রমণ গাইডলাইন।

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা – Napittachora Waterfall

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা পরিচিতি

আর্টিকেলের শুরুতেই চলুন নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা এর পরিচিতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। এতে করে এই দর্শনীয় স্থানটিকে যাদের আনকমন মনে হচ্ছে তারা সহজেই স্থানটি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জেনে নিতে পারবেন। 

পাহাড়ে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র জলপ্রপাত বা ছড়া মূলত নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা। ঝর্ণার পাশাপাশি স্থানটিতে রয়েছে সুন্দরের ভয়ংকর রূপ উপভোগ করার মতো একটি ট্রেইল। মোটামুটি কিছুটা ভয়ংকর বলেই এই ট্রেইলটির সৌন্দর্যকে ভয়ংকর সৌন্দর্যে বলা হয়!

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো বিগত কয়েক বছর ধরে অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক যেসব ঝর্ণা ভ্রমণ করার মতো আকর্ষণীয় এবং উপভোগ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, সেসব ঝর্ণার মধ্যে অন্যতম হলো চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের এই Napittachora Waterfall

সৌন্দর্য এবং এডভেঞ্চারের এক অনন্য উৎস হিসেবে নাপিত্তাছড়া ঝর্ণার শ্রেষ্ঠত্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে ছুটে আসা অসংখ্য পর্যটকের ভীড়। এছাড়াও অনেকেই এই ঝর্ণাকে সীতাকুণ্ড-মিরসরাই অঞ্চলের ঝর্ণাগুলোর মধ্যে খৈয়াছড়া ঝর্ণার পরবর্তী জনপ্রিয় ঝর্ণা হিসেবে ধরে থাকেন। ধরবেনই না বা কেনো! এর সৌন্দর্য এবং এডভেঞ্চার যেকোনো ভ্রমণপিয়াসীর মন ঘায়েল করতে যথেষ্ট! 

হাতে মাঝারি সাইজের একটা বাঁশ নিয়ে ঝর্ণার চারপাশে কর্দমাক্ত আর পিচ্ছিল পথ পাড়ি দেওয়ার মতো এডভেঞ্চার উপভোগ করার সুযোগ কে না চায়! আর ঠিক এই ব্যাপারটিকে অসম্ভব সুন্দরভাবে উপভোগ করার সুযোগ পাওয়া যাবে নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ভ্রমণে! বিশেষ করে এর ট্রেইলে! 

বলে রাখা ভালো এই ঝর্ণায় পানির পরিমাণ অন্যান্য ঝর্ণার চাইতে অনেক বেশি। সুতরাং গভীরতা বেশি হওয়ায় ঝর্ণার একেবারে সামনে যেতে হলে যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এক্ষেত্রে সাঁতার না জানা কোনো ব্যাক্তির পক্ষে ঝর্ণার খুব কাছাকাছি যাওয়াটা একেবারেই অসম্ভব ব্যাপার। 

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ছাড়াও দ্বিতীয় আর তৃতীয় ঝর্ণায় যাওয়ার জন্য আপনাকে কুপিকাটাখুম ঝর্ণার ঠিক বাম দিকের পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে আস্তে আস্তে উপরে উঠতে হবে। মোটামুটি আপনি যদি সরাসরি সুউচ্চ পাহাড়ের প্রতিকূল পরিবেশে হাঁটতে হাঁটতে নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা উপভোগ করতে না পারেন তবে এর আসল সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগটাই আজীবন মিসিং হয়ে থাকবে। 

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা এর অবস্থানNapittachora Waterfall Location

এবার চলুন নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা এর অবস্থান সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। ঝর্ণাটি মূলত চট্টগ্রামের অসংখ্য দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে একটি। আরেকটু খোলাসা করে বললে চট্টগ্রামের মিরসরাইয়েই এই নাপিত্তাছড়া ঝর্ণার অবস্থান। সুতরাং যারা চট্টগ্রামে বসবাস করেন এবং একইসাথে সরাসরি নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা উপভোগ করতে চান তারা চাইলেই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে পারেন। 

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা এর ইতিহাস 

চলুন আর্টিকেলের এই অংশে জেনে নেওয়া যাক নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা এর ইতিহাস সম্পর্কে। যারা এই ঝর্ণাটিতে ইতিমধ্যেই ঘুরতে গেছেন তারা হয়তো জানেন পাহাড়ের কোল ঘেষে টিপরাখুম মধ্য দিয়েই যেতে হয়। কিংবা যারা যাননি তারাও ব্যাপারটি জেনে রাখতে পারেন। 

যেহেতু ঝর্ণাটিতে পৌঁছাতে হলে পাহাড়ের কোল ঘেষে টিপরাখুম মধ্য দিয়েই যেতে হয় সেহেতু ধরে নেওয়া হয় ত্রিপুরা আদিবাসীদের কোনো এক ব্যাক্তি প্রথমবারের মতো ঝর্ণাটির সন্ধান পান এবং এর আশেপাশে বসতি গড়ে তুলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো বর্তমানে ঝর্ণাটির আশেপাশে বাস করা বিভিন্ন আধিবাসীদের মাঝে ত্রিপুরা আধিবাসীদের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। 

Napittachora Waterfall এর সৌন্দর্য 

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণার পরিচিতি, অবস্থান এবং ইতিহাস সম্পর্কে তো জানলেন! এবার এই স্থানটির আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য অর্থ্যাৎ সৌন্দর্য নিয়ে কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। এতে করে এই পর্যটন স্থানটিতে ঘুরতে যাওয়ার মূল কিংবা পেছনের কারণ সম্পর্কে আপনার জানা হয়ে যাবে। 

শুরুতেই স্থানটির পাহাড়ে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র জলপ্রপাত বা ছড়াটি সম্পর্কে বলতে চাই। কুপিকাটাকুম, মিঠাছড়ি এবং বান্দরকুম নামক ৩ টি জনপ্রিয় ঝর্ণা নিয়ে প্রাকৃতিকভাবে সাজানো রয়েছে এই ছড়া। মূলত এটি সরাসরি উপভোগের উদ্দেশ্যেই নিয়মিত অসংখ্য পর্যটক পাড়ি জমান এই নাপিত্তাছড়া ঝর্ণায়। 

স্থানীয়ভাবে কিংবা সারাদেশের অনেকেই বান্দরকুমকে বিভিন্ন সময় বান্দরিছড়া নামে ডেকে থাকেন। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো বান্দরকুমের অবস্থান বেশ উঁচুতে থাকায় স্থানটি উপভোগ করার ক্ষেত্রে কেউই মিস করতে চায় না। 

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণার প্রতিটি ঝর্ণা খুব কাছ থেকে উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে নাপিত্তাছড়া ট্রেইল এর সাহায্য নিতে হবে। সহজ কথায় নাপিত্তাছড়া ট্রেইল মানে হলো এক একটি ঝিরিপথ। বিভিন্ন মুভিতে কিংবা এডভেঞ্চার নিয়ে সাজানো ভিডিওতে বাঁশ হাতে এক দল পর্যটককে দেখা যায় পাহাড়ি এলাকাগুলিতে ঘুরতে! মাঝে থাকে ছোট্ট খাল! যা কোনো এক ঝর্ণা থেকে বেড়িয়েছে। দৃশ্যটা মুভির কোনো ভিডিও ক্লিপ হলেও নাপিত্তাছড়া ঝর্ণায় সরাসরি তা উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে এই নাপিত্তাছড়া ট্রেইলে ঘোরাঘুরি করার সময়। 

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণায় যাওয়ার উপায়

এবারের অংশে আমরা জানবো নাপিত্তাছড়া ঝর্ণায় যাওয়ার উপায় সম্পর্কে। নাপিত্তাছড়া ঝর্ণায় যেতে হলে বাংলাদেশের যেকোনো জেলা থেকে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের মিরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত নয়াদুয়ার বাজার এলাকায় পৌঁছাতে হবে। মূলত মহাসড়ক থেকে ৫০-৬০ মিনিটের পথ পেরুলেই এই নাপিত্তাছড়া ঝর্ণার দেখা মিলবে। 

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ভ্রমণে যেখানে খাওয়া-দাওয়া করবেন

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ভ্রমণে খাওয়া-দাওয়ার পর্ব সারার ক্ষেত্রে সেখানকার বিভিন্ন হোটেলের সাহায্য নিতে পারেন। এসব হোটেলে আপনি চাইলে আনলিমিটেড ভাতের সাথে মাছ, মাংস কিংবা তরকারিও কিনে নিতে পারেন। এসব হোটেলে আবার দেশী মুরগির মাংসও বিক্রি করা হয়। সুতরাং যারা দেশী মুরগির মাংস ভালোবাসেন তারা এখান থেকে কালেক্ট করে নিতে পারেন। 

Napittachora Waterfall ভ্রমণে যেখানে রাত্রিযাপন করবেন

Napittachora Waterfall ভ্রমণে যেহেতু পাহাড়ী এলাকায় হাঁটবার প্রয়োজন পড়ে কিংবা ঝর্ণার কাছাকাছি যেতে হলে অনেক পরিশ্রম করতে হয়, সেহেতু একদিনে এই ভ্রমণ মিশন শেষ করাটা অনেক কঠিন। এক্ষেত্রে সেখানকার কোনো একটি স্থানে রাত কাটানোর ব্যবস্থা করে নিতে হবে। তবে দুঃখের ব্যাপার হলো নাপিত্তাছড়া ঝর্ণার আশেপাশে কোনো ভালো হোটেল নেই। ফলে আপনাকে মিরসরাই কিংবা সীতাকুণ্ডের ভালো কোনো হোটেলে উঠে পড়তে হবে। 

নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ভ্রমণের বাড়তি টিপস

ঝর্ণা মানেই যেমন মন ভালো করবার মতো স্থান ঠিক তেমনই ভ্রমণ করার ক্ষেত্রে এই একই স্থানটি হতে পারে সবচেয়ে বিপদজনক এবং মারাত্মক যেকোনো দূর্ঘটনার কারণ। সুতরাং নাপিত্তাছড়া ঝর্ণায় ভ্রমণ করা প্রতিটি পর্যটককে হতে হবে সর্বোচ্চ সাবধানী এবং সক্রিয়! এই পর্যায়ে চলুন নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ভ্রমণের বাড়তি টিপস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। 

  • ঝর্ণায় ঘোরাঘুরি করার সময় কখনো স্থানটিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলবেন না
  • কিছুটা পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় নেটওয়ার্ক না পেলে হা-হুতাশ করবেন না
  • মোবাইলের চার্জ সম্পর্কিত সেইফটির উদ্দেশ্যে সাথে পাওয়ার ব্যাংক রাখুন
  • সাঁতার না জানলে নাপিত্তাছড়া ঝর্ণার জলপ্রপাতের বেশি গভীরে যাবেন না
  • জোঁকের হাত থেকে বাঁচতে অতিরিক্ত ঘাস থাকা স্থানে হাঁটাহাঁটি করা থেকে বিরত থাকুন
  • গ্রিপের জুতা ছাড়া স্থানটির পাহাড়ে উঠতে গেলে অনেক জটিলতার মুখোমুখি হতে হবে
  • সাথে মিডিয়াম সাইজের বাঁশ রাখুন
  • কাঁধের ব্যাগের ওজন যত কমানো যায় ততটাই মঙ্গল

ইতি কথা

Napittachora Waterfall নিয়ে সম্পূর্ণ একটি ভ্রমণ গাইডলাইন শেয়ার করার চেষ্টা করেছি। আশা করি আমাদের আজকের এই গাইডলাইন আপনার পরবর্তী নাপিত্তাছড়া ঝর্ণা ভ্রমণকে আরো সহজ, সুন্দর এবং অর্থবহ করে তুলবে। এমনটাই কামনা করে আজকের মতো শেষ করছি। ভালো থাকুন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *