জেনে নিন চট্টলা ট্রেনের সময়সূচি | পরিচিতি | ইতিহাস | স্টপেজ | টিকিটমূল্য এবং সুযোগ-সুবিধা!
Skip to content
জেনে নিন চট্টলা ট্রেনের সময়সূচি | পরিচিতি | ইতিহাস | স্টপেজ | টিকিটমূল্য এবং সুযোগ-সুবিধা!

জেনে নিন চট্টলা ট্রেনের সময়সূচি | পরিচিতি | ইতিহাস | স্টপেজ | টিকিটমূল্য এবং সুযোগ-সুবিধা!

মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

ট্রেন ভ্রমণ কার না ভালো লাগে! আর এই ট্রেন ভ্রমণ কিংবা ট্রেনে করে যাতায়াত করা যদি আপনার নিত্যদিনের রুটিনের অংশ হয়ে উঠে সেক্ষেত্রে উচিত নিরাপদ এবং উন্নত মানের সার্ভিস দেওয়া ট্রেন নির্ধারণ করা। এক্ষেত্রে আপনি চাইলে চট্টলা ট্রেনের সাহায্য নিতে পারেন। এই ট্রেনটি যেমন সার্ভিসের দিক দিয়ে বেশ মানসম্পন্ন বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেয়, ঠিক তেমনই টিকিট মূল্যের দিক দিয়েও সাধারণ মানুষের সামর্থ্যাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে। তবে চলুন…দেরি না করে মূল আলোচনায় যাওয়া যাক। জেনে নেওয়া যাক চট্টলা ট্রেনের সময়সূচি, পরিচিতি, ইতিহাস, স্টপেজ, টিকিটমূল্য এবং সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে। 

চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচিতি

চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত রুটে যেসমস্ত ট্রেন নিয়মিত সার্ভিস দিয়ে আসছে সে-সমস্ত ট্রেনের মাঝে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেন হলো অন্যতম। এটিকে বাংলাদেশ রেলওয়ে কতৃপক্ষের ৮০১/৮০২ নাম্বার ট্রেন হিসাবে ধরা হয়। এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করলে তা ৮০১ নাম্বার ট্রেন হিসাবে ধরা হয়। অন্যদিকে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করলে ট্রেনটিকে ৮০২ নাম্বার ট্রেন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। 

চট্টগ্রাম টু ঢাকা রুটের অন্যান্য স্টপেজে বিশেষ করে ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার স্টপেজেও এই চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সার্ভিস দিয়ে থাকে। বলে রাখা ভালো এই ট্রেনটি প্রথমবারের মতো সার্ভিস প্রদান করে তার ক্যারিয়ার শুরু করে ১ নভেম্বর ২০১০ সালে বা আজকে থেকে আরো ১২ বছর আগে। যাত্রা পথে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রায় ১৪টি স্টপেজ ব্যবহার করে। যাইহোক! চট্টলা ট্রেনের সময়সূচিসহ সম্পর্কিত অন্যান্য তথ্য জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। 

চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের কার্যক্রম

চলছে চট্টলা ট্রেনের সময়সূচিসহ এ-নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা! এবং আলোচনার এই অংশে আমরা জানবো চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের কার্যক্রম সম্পর্কে। 

প্রতি সপ্তাহে ৬ দিন ধরে চলে এই ট্রেনের কার্যক্রম। সকল পরিস্থিতি বিবেচনা করে কতৃপক্ষ সপ্তাহের ১ টি দিনকে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের অফ ডে হিসাবে ঘোষণা করেছে। যা সম্পর্কে আমরা এই আর্টিকেলের পরবর্তী অংশেই বিস্তারিত আলোচনা করবো। 

যাত্রাপথে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেন ৩৪৬ কিলোমিটার বা প্রায় ২১৫ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে থাকে। ট্রেন লাইন হিসাবে ট্রেনটি ব্যবহার করে আখাউড়া-লাকসাম-চট্টগ্রাম, টঙ্গী-ভৈরব-আখাউড়া

এবং নারায়ণগঞ্জ-বাহাদুরাবাদ ঘাট লাইন। 

চট্টলা এক্সপ্রেস নামে খ্যাত বাংলাদেশের এই জনপ্রিয় ট্রেনটিতে যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় হলো এতে এখনো পর্যন্ত কোনো ঘুমানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যার কারণে ট্রেনের সার্ভিস ব্যবহার করাকালীন সময়ে যাত্রীরা ঘুমাতে গিয়ে যথেষ্ট বিপাকে পড়ে থাকে। 

চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের লোকেশন

আসলে কোনো ট্রেনের সরাসরি বা স্থায়ী কোনো লোকেশন হয় না। তবে কথার কথা বলতে গেলে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের লোকেশন হিসাবে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনকে ধরে নেওয়া যেতে পারে। কারণ এই স্টেশন থেকে ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে। সবশেষে যাত্রা শেষ হয় সরাসরি ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে। 

চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ এবং সময়সূচি

চট্টলা এক্সপ্রেস যেহেতু লম্বা একটি জার্নি নিয়মিত শেষ করে সেহেতু এই পথের বিভিন্ন রুটে হয়তো আপনার ট্রেন সার্ভিসের প্রয়োজন পড়তে পারে। অর্থ্যাৎ ঢাকা টু চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম টু ঢাকা রুট আমাদের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত হয়। এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে হয়তো নিয়মিত কিংবা অনিয়মিত হারে যাতায়াত করবার প্রয়োজন পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সার্ভিস নিলে মন্দ হয় না। তবে সার্ভিস গ্রহণের পূর্বে প্রয়োজনীয় তথ্য হিসাবে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ এবং সময়সূচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। চলুন জেনে নেওয়া যাক: 

কুমিরা রেলওয়ে স্টেশনে থামে চট্টগ্রাম থেকে ০৮ঃ৫৮ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে ১৯ঃ৫৯ মিনিটে 

ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে থামে চট্টগ্রাম থেকে ১০ঃ১০ এবং ঢাকা থেকে ১৮ঃ৫০ মিনিটে 

হাসানপুর রেলওয়ে স্টেশনে থামে চট্টগ্রাম থেকে ১০ঃ৩৮ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে ১৮ঃ২৫ মিনিটে 

নাঙ্গলকোট রেলওয়ে স্টেশনে থামে চট্টগ্রাম থেকে ১০ঃ৪৮ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে ১৮ঃ১৬ মিনিটে 

লাকসাম রেলওয়ে স্টেশনে থামে চট্টগ্রাম থেকে ১১ঃ০৭ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে ১৭ঃ৫৫ মিনিটে 

কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনে থামে চট্টগ্রাম থেকে ১১ঃ৫২ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে ১৭ঃ০৫ মিনিটে 

শশীদল রেলওয়ে স্টেশনে থামে চট্টগ্রাম থেকে ১২ঃ২০ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে থামে ১৬ঃ৪১ মিনিটে 

কসবা রেলওয়ে স্টেশনে থামে চট্টগ্রাম থেকে ১২ঃ৩৮ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে ১৬ঃ২৫ মিনিটে 

আখাউড়া রেলওয়ে স্টেশনে থামে চট্টগ্রাম থেকে ১৩ঃ০২ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে ১৫ঃ৫০ মিনিটে 

বি- বাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে থামে চট্টগ্রাম থেকে ১৩ঃ২৫ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে থামে ১৫ঃ২০ মিনিটে 

ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনে থামে চট্টগ্রাম থেকে ১৩ঃ৪৮ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে ১৪ঃ৫৮ মিনিটে 

মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশনে থামে চট্টগ্রাম থেকে ১৪ঃ০৭ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে ১৪ঃ৪০ মিনিটে

নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশনে থামে চট্টগ্রাম থেকে ১৪ঃ২৬ এবং ঢাকা থেকে থামে ১৪ঃ১৫ মিনিটে 

বিমান বন্দর রেলওয়ে স্টেশনে থামে চট্টগ্রাম থেকে ১৫ঃ১০ মিনিটে এবং ঢাকা থেকে ১৩ঃ২৭ মিনিটে 

চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সিট

আমরা সকলেই জানি প্রতিটি ট্রেনেরই আলাদা আলাদা সিট ক্যাটাগরি রয়েছে। যা টিকিট মূল্যের উপর নির্ভর করে ভাগ করা হয়। মূল্য অনুযায়ী প্রতি ক্যাটাগরির সিটেই থাকে আলাদা সুযোগ-সুবিধা। চলুন তবে এবারে জেনে নেওয়া যাক চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সিট ক্যাটাগরি সম্পর্কে। ট্রেনটিতে বর্তমানে মূলত ৩ ক্যাটাগরির সিট রয়েছে। এগুলি হলো: 

  • শোভন সিট
  • শোভন চেয়ার সিট 
  • এবং সবশেষে প্রথম সিট

ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্রতিটি সিটের টিকেট মূল্য সম্পর্কে জানতে আমাদের সাথেই থাকুন। 

চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট: চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া 

আর্টিকেলের এই অংশে আমরা আলোচনা করবো চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট প্রাইজ সম্পর্কে। মূলত নির্ধারিত মূল্যের সাথে প্রয়োজনীয় ১৫% ভ্যাটও যুক্ত করা হয়েছে। সুতরাং টিকিট কেনার সময় বা ভাড়া পরিশোধের সময় আলাদা করে কোনো ভ্যাট পে করতে হবে না। যাইহোক! চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট প্রাইজ সম্পর্কে জানতে নিচের পয়েন্টগুলিতে ফোকাস করুন: 

  • শোভন সিটের টিকিট মূল্য ২৮৫ টাকা
  • শোভন চেয়ার সিটের টিকিট মূল্য ৩৪৫ টাকা
  • প্রথম সিটের টিকিট মূল্য ৪৬০ টাকা

চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি 

ইতিমধ্যেই আমরা চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের বিভিন্ন স্টপেজের সময়সূচি সম্পর্কে আলোচনা করলেও ট্রেনের অফিসিয়াল সময়সূচি সম্পর্কে আলোচনা করিনি। মূলত চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে সকাল ৮ টা ৩০ মিনিটের দিকে। উক্ত যাত্রাটি শেষ হয় একই দিনের বিকেল ১৫ টা ৫০ মিনিটের দিকে। অন্যদিকে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে ১৩.০০ মিনিটে এবং যাত্রী পরিবহন মিশনটি চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে শেষ করে রাত ৮ টা ৩০ মিনিটে। 

চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের বন্ধের দিন

মূলত যাত্রী এবং ট্রেন পরিচালনাকারীদের বাড়তি সুবিধা নিশ্চিতকরণে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের বন্ধের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। সপ্তাহের ১ টি দিন অর্থ্যাৎ মঙ্গলবারে উক্ত ট্রেনের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকে। সুতরাং ট্রেনটির সার্ভিস গ্রহণের পূর্বে বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। 

চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সুযোগ-সুবিধা 

এবার আমি চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচি ফলো করে এবং সঠিক মূল্যে টিকিট কিনে কেনোই বা ট্রেনটির সার্ভিস গ্রহণ করবেন সে-ব্যাপারে। চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের বাড়তি সুযোগ-সুবিধাগুলি হলো: 

  • ট্রেনটির প্রতিটি আসন বিভাগের টিকিট মূল্য যথেষ্ট সাশ্রয়ী
  • অভ্যন্তরে রয়েছে বেশ পাকাপোক্ত নিরাপত্তা বেষ্টনী 
  • যাত্রীদের মালপত্র গুছিয়ে রাখার জন্যে ওভারহেড র‍্যাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে 
  • রয়েছে যাত্রীদের উপযোগী অন-বোর্ড খাদ্য ব্যবস্থা

ইতি কথা

আশা করি চট্টলা ট্রেনের সময়সূচি সম্পর্কিত আমাদের আজকের এই আর্টিকেলটি আপনাকে কিছুটা হলেও উপকৃত করবে। তবুও যদি কারো কোনো প্রশ্ন থাকে সেক্ষেত্রে সরাসরি তা আমাদের জানাতে পারেন। মনে রাখবেন ট্রেন ভ্রমণের পূর্বে সেই ট্রেন সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেওয়া উচিত। এর পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারেও সতর্ক থাকা উচিত। নিজের মালামালকে যথাসম্ভব সামলে রাখুন। ট্রেনের বাইরে হাত বের করে ছবি তোলাসহ অন্যান্য কর্মকান্ড থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *