গাজীপুরঢাকা বিভাগদর্শনীয় স্থানবাংলাদেশ ভ্রমণ গাইড

গাজীপুর জেলার দর্শনীয় স্থান (Gazipur Tourist Spot) সমূহের তালিকা সহ বিস্তারিত তথ্য জানুন!

গাজীপুরের দর্শনীয় স্থান : ইতিহাসখ্যাত ভাওয়াল জনপদই আজকের আধুনিক গাজীপুর। গাজীপুর শতবর্ষের নানা ঐতিহ্যে লালিত এক সুপ্রাচীন ও ঐতিহাসিক জনপদ।  গাজীপুরের রয়েছে এক সমৃদ্ধ অতীত। কালের যাত্রায় ঐতিহ্যবাহী গাজীপুর জেলা সমৃদ্ধ হয়েছে পর্যটন শিল্পে। রাজধানী ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় এখানে গড়ে উঠেছে অনেক পর্যটন স্পট।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বৃহৎ উদ্যান ভাওয়াল জাতীয় ছাড়াও নিবিড় শাল অরণ্যে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন মনোরম পিকনিক স্পট রিসোর্ট যে গুলো ভ্রমনের জন্য ঢাকাবাসীর পছন্দ তালিকার শীর্ষে। চলুন জেনে নিই গাজীপুরের দর্শনীয় স্থান সমূহ যেগুলো একজন পর্যটনপ্রেমীর মিস করা উচিত নয়। 

গাজীপুরের দর্শনীয় স্থান – Gazipur Tourist Spot

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক – Bongobondhu Safari Park

যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকেই চলে আসতে পারেন এশিয়ার বৃহত্তম এই সাফারি পার্ক দর্শনে। ঢাকা থেকে বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের দূরত্ব মাত্র ৪০ কিলোমিটার। আপনি দেশের যেকোনো বিভাগ থেকে প্রথমে ঢাকা গিয়ে সেখান থেকে গাজীপুরের বাসে করে গাজীপুরের শ্রীপুরের বাঘেরবাজার এলাকায় বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে চলে আসতে পারেন। এটি প্রায় চার হাজার একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে । অসম্ভব সুন্দর এ পার্কে রয়েছে ভাওয়াল গড়ের ঐতিহ্যবাহী গজারি গাছ, শালবন, আকাশ চুম্বি, আকাশ মনি, কাশঁবন, ছন। এখানে দেখতে পাবেন ৮টি বাঘ, ৪টি সিংহ, ৪টি ভাল্লুক, ৪টি জিরাফ, ৩টি জেব্রা ও ১০টি বন্য গরু।

এছাড়াও এই পার্কে কুমির, সাপ, উটপাখিও দেখতে পাবেন। শিক্ষা সফর সহ পিকনিকে আসতে চাইলে তো কোন সমস্যাই নেই এই পার্কে সেক্ষেত্রে আপনি বাস অথবা মিনিবাস ভাড়া নিয়ে ঘুরে ঘুরে এই পার্ক এর জীববৈচিত্রে দেখতে পারবেন। বয়স্কদের জন্য এই পার্কের টিকেট ৫০ টাকা। তবে এভিয়ারীতে ঢুকতে চাইলে আলাদা ১০ টাকার টিকেট লাগবে। সাফারী কার চালু হয়ে গেলে সেটার জন্য টিকেট জনপ্রতি ১০০ টাকা, বাচ্চাদের জন্য ৫০ টাকা। খরচ হবে খেয়াল রাখবেন এই পার্কের ভেতর খাবার নিয়ে প্রবেশ নিষেধ।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান – Vawal National Park

শান্তির রাজ্য হিসেবে পরিচিত ভাওয়ালের বনভূমি। এই বনের সৌন্দর্য্য বলে শেষ করা সম্ভব নয়। বন বিভাগ এই বনে অজগর, ময়ূর, হরিণ এবং মেছোবাঘ ছেড়েছে। বনে হাঁটার সময় দেখা পাবেন মেঘ হু বা স্ট্রুর্ক বিলড কিংফিশার, খয়রা গেছো পেঁচা, কাঠ ময়ূর, মাছরাঙ্গা,, বন মোরগ ইতাদি। আরো দেখা মিলবে বানর ও মুখপোড়া হনুমানেরও। এত সব প্রাণী একসাথে দেখে আপনি মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না। এক মুহূর্তের জন্য হলেও আপনার মনে ইচ্ছে জাগবে ‘ইশ! যদি ঘর বাঁধতে পারতাম এই পাখিদের সাথে! এই ঘন সবুজের মাঝে, তাহলে হয়তোবা জীবনটা সত্যিকারেত পূর্ণতা পেত। এ বনে শালগাছে রয়েছে প্রচুর। ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে একসময় বাঘ, কালো চিতা, চিতাবাঘ, মেঘাবাঘ, হাতি, ময়ূর, হরিণ মায়া হরিণ দেখা যেত।

সময়ের পরিক্রমায় সেসব প্রাণী এখন আর তেমনটা নেই। তবে কাঠবিড়ালী, গুঁইসাপ, খেকশিয়াল, বাগদাস, বেজি আর কয়েক প্রজাতির সাপের দেখা মেলে এখনো। এ উদ্যানে গড়ে প্রায় ৬৪ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে, এর মধ্যে ৩৯ প্রজাতির পাখি, ছয় প্রজাতির স্তন্যপায়ীন প্রাণী, নয় প্রজাতির সরীসৃপ, ১০ প্রজাতির উভচর প্রাণী ও রয়েছে।  শাল এ বনের প্রধান বৃক্ষ। নানা গাছপালায় সমৃদ্ধ জাতীয় এই উদ্যান। এর মধ্যে রয়েছে শাল, হলুদ, আমড়া, জিগা, ভাদি, অশ্বত্থ, বট, বেহুলা, বহেড়া, আমলকি, ইত্যাদি। এই বনে ২২১ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে । ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি মাত্র ১০ টাকা। গাড়ির ক্ষেত্রে মূল্য গাড়িভেদে ভিন্ন। বাস ২শ’ টাকা, মাইক্রোবাস ১শ’ টাকা, প্রাইভেট কার ৬০ টাকা এবং অটো-রিকশা ২০ টাকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সঠিক ভর্তি তথ্য স্পেশাল কিছু টিপস সহ জানুন!

দেশের যেকোনো স্থান থেকে আপনি ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান আসতে পারেন। গাজীপুর সদর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে জয়দেবপুরে ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্কটি অবস্থিত। ঢাকা থেকে অল্প সময়ে ঘুরে আসতে পারেন। এখানে পর্যটকদের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এবং নিরাপত্তা। এই বনকে ঘিরে গড়ে তোলা হয়েছে অসাধারণ সব পিকনিক স্পট, এবংএকটি অত্যাধুনিক রিসোর্ট। এর ফলে আপনার সুযোগ হয়েছে বনের ভেতর ঘুরে বন্যপ্রাণী দেখার এবং বনের ভেতর রাত কাটানোর অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা নেয়ার।

নুহাশ পল্লী – Nuhash Polli

নুহাশ পল্লীকে আপনাদের কাছে নতুন করে পরিচয় করে দেয়ার কিছু নেই! জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের বাগানবাড়ি হল এই নুহাশ পল্লী। এখানেই লিচুবাগের ছায়ায় চিরতরে শায়িত আছেন জনপ্রিয় এই কথাসাহিত্যিক।  নুহাশ পল্লীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল “লীলাবতী দীঘি”। এই  দীঘির চারপাশ জুড়ে দেখবেন নানা রকমের গাছ। এখানে আরো রয়েছে সানকাধানো ঘাট। নুহাশ পল্লীতে ২৫০ প্রজাতির দূর্লভ ঔষধি, ফলজ, বনজ এবং মসলা জাতীয় গাছ রয়েছে। প্রত্যেক গাছের গায়ে সেটে দেয়া আছে পরিচিতি ফলক, যা দেখে খুব সহজে গাছ চেনা যাবে।

এছাড়া এখানে দেখা মিলবে হুমায়ূন আহমেদের সমাধিস্থল এবং আবক্ষ মূর্তি। নুহাশ পল্লীকে আরো দেখতে পাবেন পদ্মপুকুর পাথরের মৎসকন্যা, প্রাগৈতিহাসিক প্রানীদের অনুকীর্তি, অর্গানিক ফর্মে ডিজাইন করা অ্যাবড়োথেবড়ো সুইমিং পুল। এই পুলে  হুমায়ূন আহমেদ এবং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় একসঙ্গে জলে নেমেছিলেন। ভূত বিলাস, বৃষ্টিবিলাসসহ তিনটি বাংলো রয়েছে এই বাগানবাড়িটিতে। এই বাগানবাড়িটির পূর্ব দিকে রয়েছে খেজুর বাগান। বাগানের এক পাশে “বৃষ্টি বিলাস” নমে অত্যাধুনিক একটি বাড়ি রয়েছে।

নুহাশ পল্লী গাজীপুর জেলার পিরুজ আলী গ্রামে অবস্থিত। এই গ্রাম বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্রাম। গাজীপুর চৌরাস্তা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে পড়েছে হোতাপাড়া বাজার। সেখান থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে পিরুজ আলী গ্রামে অবস্থিত নুহাশ পল্লী।  এই নুহাশ পল্লী ৪০ বিঘা জায়গা নিয়ে তৈরি হয়েছে। তাহলে আর দেরি কেন এখন ব্যাগ গুছিয়ে একদিন নুহাশ পল্লী দেখে আসার পালা ! 

আরশিনগর হলিডে রিসোর্ট – Arshinagar Holiday Resort

ভাওয়ালের গ্রাম এবং শালবনের মাঝে অসাধারণ প্রাকৃতিক আবহাওয়ায় আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা নিয়ে সাজানো একটি রিসোর্ট হল আরশিনগর হলিডে রিসোর্ট। আরশিনগরে রয়েছে এমনই আয়োজন যেখানে গেলে আপনি পাবেন নাগরিক সব ক্লান্তি এক মুহূর্তে ঝেড়ে ফেলে ফুরফুরে মেজাজে প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ। এখানে প্রকৃতির মাঝেই পেয়ে যাবেন শহুরে অভ্যস্ত জীবনের সব ব্যবস্থাও। আরশিনগর হলিডে রিসোর্টে প্রকৃতি সেই সাথে কৃত্রিমতার এক দারুণ সমন্বয় করেছেন আরশিনগরের সত্ত্বাধিকারী ব্যবসায়ী খালিদ হাসান। আরশিনগর হলিডে রিসোর্ট রূপসী বাংলার এক সবুজ গ্রাম। 

আরশিনগর হলিডে রিসোর্ট এর যাওয়ার পথ আঁকাবাঁকা কাঁচাপাকা রাস্তা, যেখানে যাওয়ার সময় দেখবেন দু’ধারে নানা ফুল ফলের সমারোহ। এসব কিছু স্বপ্নের মতো মনে হতে পারে শহুরে মানুষের কাছে। ঢাকা থেকে মাত্র ত্রিশ কিলোমিটার দূরে গাজীপুরের ভাওয়ালে গড়ে উঠেছে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত আরশিনগর হলিডে রিসোর্ট এবং পিকনিক স্পট। আরশিনগরে রয়েছে  সুইমিং পুল, বারবিকিউ করার সুযোগ, বাচ্চাদের জন্য খেলার মাঠ, বিকেলে আড্ডার জন্য খোলা মাঠে বিশেষ ব্যবস্থা।

এখানকার প্রতিটি রিসোর্টে রয়েছে উন্নতমানের সব আধুনিক সুযোগ সুবিধা। রিসোর্টগুলোতে পিকনিক, পার্টি অ্যারেঞ্জসহ নানা অনুষ্ঠানের জন্যও রয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। এছাড়াও ডিজে পার্টি, কনসার্ট,, কনফারেন্স আয়োজনের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করে আরশিনগর।

একডালা দুর্গ – Ekdala Durga

আনুমানিক ৬০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে নির্মিত একটি দুর্গ ঐতিহাসিক দুর্গ একডালা দুর্গ। ইলিয়াস শাহ দিল্লীর সুলতান ফিরোজ তুঘলকের সাম্ভাব্য আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ১৩৫২ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এই দুর্গটি তৈরী করেন। ১৩৫৩ খ্রিষ্টাব্দে ফিরোজ তুঘলক বাংলা আক্রমণ করলেও একাডালা দুর্গ অধিকার করতে পারেননি। ঐতিহাসিক এই দুর্গটি গাজীপুর জেলার অন্তর্গত কাপাসিয়া উপজেলার অন্তর্গত একটি স্থানে অবস্থিত। কাপাসিয়া উপজেলা থেকে মাত্র ১০ কি. মি. দক্ষিণে তারাগঞ্জ বাজারের পাশে শীতলক্ষা নদীর পশ্চিম তীরে এই দুর্গটি অবস্থিত। 

জেনে তো নিলেন গাজীপুরের দর্শনীয় স্থান সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য স্থান সমূহের কথা। গাজীপুরের দর্শনীয় এবং ঐতিহাসিক যেসব স্থান দেশজুড়ে খুবই সুপরিচিত সেসবের ও উল্লেখ করা হয়েছে এই ব্লগে। এখন গাজীপুরের ঐতিহাসিক আর দর্শনীয় সব স্থান দেখার পালা ! রাজশাহীর জেলার দর্শনীয় স্থান (Rajshahi Tourist Spot) সমূহের তালিকা সহ বিস্তারিত তথ্য জানুন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *